Image description

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে এবং পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে—এমন পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায় থেকে পর্যায়ক্রমে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং পুলিশ বাহিনীকে আবারও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পূর্ণ আস্থা তৈরি হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি পুলিশ এখন দায়িত্ব পালনে সক্ষম এবং জনগণের মনেও সেই বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সেনাবাহিনীকে মাঠে না রেখে আমরা তাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।"

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৫ মে) অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আগামী ৬ জুন থেকে সেনাসদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে। এই প্রক্রিয়াটি হবে পর্যায়ক্রমিক; প্রথমে দূরবর্তী জেলাগুলো থেকে সেনা সদস্যদের তুলে নেওয়া হবে এবং পরে ধাপে ধাপে বিভাগীয় শহর ও বড় জেলাগুলো থেকে প্রত্যাহার করা হবে। পুরো জুন মাসের মধ্যে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলমান বিশেষ অভিযান প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং প্রতিদিনই দাগী আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ‘বড় গডফাদারদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সঠিকভাবে তালিকা প্রণয়ন করেই এই অভিযানে নামা হয়েছে।"

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সেনাবাহিনী কীভাবে প্রত্যাহার করা হবে সে বিষয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা একসঙ্গে বসে চূড়ান্ত পরিকল্পনা নির্ধারণ করবে। অভিযানে কোথাও যৌথ বাহিনী আবার কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এককভাবে কাজ করছে।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কোর কমিটির বৈঠকে আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার এবং বিজিবি মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় মাঠ থেকে সেনা প্রত্যাহার ছাড়াও দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও পুলিশের পোশাক পরিবর্তনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

মানবকণ্ঠ/আরআই