Image description

১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটের সমন্বিত প্রতীক হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রকাশ্যে এই প্রতীক হস্তান্তর করা হয়।

জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, নাহিদ ইসলামের হাতে আজ একটি সমন্বিত প্রতীক তুলে দেওয়া হলো। তিনি জানান, অন্যান্য প্রার্থীদের হাতে থাকবে দাঁড়িপাল্লা, আর নাহিদ ইসলামের হাতে দেওয়া হচ্ছে ‘পাল্লা-কলি’। দাঁড়িপাল্লার উপরের অংশের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এখানে থাকা কলিটিকে শাপলা কলি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। ঢাকা-১১ আসনের ভোটারদের জন্য ইনসাফের প্রতীক হিসেবে এই চিহ্ন নাহিদ ইসলামের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

পরে ঢাকার বিভিন্ন আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটের প্রার্থীদের হাতেও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, দেশে আর কোনো ভোট ডাকাতি দেখতে চান না তারা। ইনসাফের অভাবে দেশের টাকা বিদেশে পাচার হয়ে ‘বেগমপাড়া’ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েম হলে তার পরিণতিও অতীতের মতোই হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন জামায়াত আমির।

তিনি আরও বলেন, জামায়াত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে নারীরা নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশে কাজ করতে পারবেন। নারী-পুরুষ সবাই মিলেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

১০ দলীয় জোটে ভোট দেওয়ার অর্থ চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘হ্যাঁ’ ভোট উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি করের বাইরে যে অবৈধ ‘বেসরকারি ট্যাক্স’ বা চাঁদাবাজি চলছে, তা বন্ধ করা হবে। ভিক্ষুক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও যে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হয়, তা আর চলতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

এ সময় তিনি শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কণ্ঠ তোলার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে হাদি একজন নয়, আজ ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে তার আদর্শ ছড়িয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জনসভাকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই মিরপুর-১০ এলাকায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। জনসভায় জামায়াত ও শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ছাড়াও ১০ দলীয় জোটের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/আরআই