Image description

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন, “কেউ কেউ বসন্তকালে এসে কুহু কুহু ডাক শুরু করে”—যা রাজনৈতিক অঙ্গনে মৌসুমি সক্রিয়তার প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বক্তব্যে দেশের চারটি প্রধান নদীর অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, “আমাদের নদীগুলোকে খুন করা হয়েছে। ওরা পাঁচ বছরে একবার আসে, বাকি সাড়ে চার বছর হারিকেন জ্বালিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।” এরপরই তিনি বলেন, “কেউ কেউ আবার বসন্তের কোকিলের মতো বসন্তকালে আইসা কুহু কুহু ডাক শুরু করে।”

উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বলা যায়—মাত্র পাঁচ বছরেই এই অঞ্চলের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব। তাঁর দাবি, উর্বর মাটি ও সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ষড়যন্ত্র ও বঞ্চনার কারণে উত্তরবঙ্গকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে।

১০ দলীয় জোটকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ তাদের সংসদে পাঠালে সরকার গঠনের সুযোগ মিলবে এবং তখন শুধু নদীর জীবনই নয়, মানুষের জীবনেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

জনসভায় তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, দেশে প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, শহীদ পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষদের প্রতি জামায়াত কৃতজ্ঞ এবং ক্ষমতায় এলে তাদের সম্মান নিশ্চিত করা হবে।

জেলা জামায়াতের আমির ইকবাল হুসাইনের সভাপতিত্বে আয়োজিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১০ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সভা শেষে পঞ্চগড়-১ আসনের জোটপ্রার্থী সারজিস আলমের হাতে শাপলা কলি প্রতীক এবং পঞ্চগড়-২ আসনের প্রার্থী শফিউল আলমের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির।

মানবকণ্ঠ/আরআই