Image description

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “আল্লাহ, রাসূল (সা.), পরকাল ও তাকদিরে বিশ্বাসী কোনো মুসলমানকে কুফুরি বা শিরকের সঙ্গে তুলনা করা শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন নয়, বরং ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অবমাননা। কোনো মুসলমানকে কুফুরি বলার অধিকার কারও নেই।”

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, “ইসলাম সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান ছাড়াই এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য একটি মুসলিম দেশের রাজনৈতিক নেতার জন্য চরম লজ্জাজনক।”

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, “স্বাধীনতার পূর্বে অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একা ছিল না। মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামসহ বামপন্থী অনেক দলও সে সময় ভারতীয় আগ্রাসনের আশঙ্কায় ভিন্ন অবস্থান নিয়েছিল। পরবর্তী ইতিহাস প্রমাণ করেছে যে, ভারতীয় আধিপত্যবাদের সেই আশঙ্কাগুলো অমূলক ছিল না।” 

তিনি আরও বলেন, “জামায়াত কোনো ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। স্বাধীনতার পর কয়েক দশক পার হলেও কোনো মামলা বা জিডি না হওয়াই এর প্রমাণ।”

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানই জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে জামায়াতসহ সকল দলকে রাজনীতি ও নির্বাচনে আসার সুযোগ দিয়েছিলেন। এমনকি ১৯৯১ সালে বিএনপি যখন আসন সংকটে ছিল, তখন জামায়াতের সমর্থন নিয়েই তারা সরকার গঠন করেছিল। যারা আজ প্রশ্ন তুলছেন, তাদের উচিত তাদের পূর্বসূরিদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ইতিহাস পর্যালোচনা করা।”

নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বলেন, “খুলনা-৫ আসনে চাঁদাবাজ, কালো টাকার মালিক ও সন্ত্রাসীরা সমাজকে জিম্মি করে রেখেছে। দুর্নীতি ও দুঃশাসনের এই অন্ধকার অধ্যায় শেষ করতে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আমরা ১০ দলের নেতৃত্বে একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।”

এদিন ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের আরাফাত আবাসিক এলাকা, শিবপুর, বাদুরগাছা ও ফুলতলা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন তিনি। এসময় ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপি থেকে নাসির গাজীর নেতৃত্বে বেশ কিছু কর্মী-সমর্থক জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।

গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মানবকণ্ঠ/ডিআর