শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের কনসার্ন জানিয়েছি, প্রতিবাদ করেছি এবং করে যাব। আমাদের অধিকার ও জনগণের অধিকার আমরা আর কাউকেই টানাটানি করার সুযোগ দেব না।”
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর পানির ট্যাংকি এলাকায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমানের নিজ নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৫ এর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় ও জামায়াতের ডিজিটাল প্রচারের জন্য ‘মাল্টি মিডিয়া বাস’ উদ্বোধন উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শেরপুরে সংঘর্ষের ঘটনাটি কী নির্দেশ করে এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, এই ঘটনা অসহিষ্ণুতা, জনগণের ওপর আস্থার অভাব এবং অন্যের বিজয় সহ্য করতে না পারার মানসিকতার ইঙ্গিত দেয়।
তিনি বলেন, জামায়াত একটি নতুন বাংলাদেশের অপেক্ষায় রয়েছে। “নতুন বাংলাদেশ মানে ভূগোল বদলানো নয়; চরিত্র ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। গত ৫৪ বছর অধিকাংশ সময় জনগণের ওপর জুলুম করা হয়েছে, ফ্যাসিবাদ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এটা আমরা চাই না। আমরা চাই ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ,” বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও অপরাধমুক্ত শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১১ দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবর্তনের সরকার গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, জামায়াতের নির্বাচনী লড়াই কোনো দল, ব্যক্তি বা পরিবারের জন্য নয়; ১৮ কোটি মানুষের কল্যাণের জন্য। নির্বাচনে একক বিজয়ের চেয়ে জনগণের সামগ্রিক বিজয়কেই গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।
প্রথম ধাপে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে পুরনো ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এরপর জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম শক্তির হাতেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব দেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াতের এক নেতা নিহত হন। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষ ঘটে।
নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments