Image description

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একজন শ্রমিক ভাই কিংবা বোনের সন্তান সেও যদি মেধাবী হয়, তার মেধা বিকাশের দায়িত্ব নেবে সরকার। আমরা চাই, তাদের মধ্য থেকেও আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী বের হয়ে আসুক। আমরা সেই রাজনীতির ধারা চালু করতে চাই। আমরা কথা দিচ্ছি পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতি রাজার ছেলে রাজা হবে, রাজনীতির এ ধারা পালটে দেব।

মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে গাজীপুর জেলা শহরের রাজবাড়ী মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, যার যেমন অবদান তাকে তেমন মূল্যায়ন করতে হবে এর নাম ইনসাফ। সবাইকে গলা কেটে সমান করে দেওয়ার নাম ইনসাফ নয়। যার যেটা ন্যায্য পাওনা তার হাতে সেটাই তুলে দিতে হবে। যুব সমাজ তৈরি হয়ে যাও। আমরা এই দেশটাই তোমাদের হাতে তুলে দিতে চাই। 

তিনি বলেন, এবারকার নির্বাচনে আমাদের অঙ্গীকার দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া। আরেকটা দলেরও নেতৃবৃন্দ বলতেছে তারাও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়বেন। ভালো কথা। ভালো কাজ নিজের ঘর থেকে শুরু করতে হয় সেটার প্রমাণ আগে দেন। ৪৯ জন ঋণ খেলাপি যাদের বগলের নিচে নিয়ে নির্বাচন করছেন আগে তাদের বাতিল ঘোষণা করেন। যদি সাহসিকতার সঙ্গে এটা করতে পারেন জনগণ কিছুটা বিশ্বাস করবে, হ্যাঁ তাদের সদিচ্ছা আছে। আর যদি ঋণ খেলাপিদের বগলের নিচে রেখে বলেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়বো তাহলে বিষয়টা এমন হবে, আপনারা যা বলেন তা করেন না আর যা করেন তা বলে বলেন না। আমরা ওইটা চাই না। 

জামায়াত আমির বলেন,  ৫৪ বছরে বহু দলের নেতা-নেত্রীরা দেশ পরিচালনা করেছেন। তারা যখন প্রথম ক্ষমতায় বসেছেন যে পরিমাণে সম্পদশালী ছিলেন ৫ বছর, ১০ বছর, ১৫ বছর পরে এই সম্পদ ৭০০ থেকে ৮০০ গুণ বেড়ে গেছে। বাপের বাড়ি যাই হোক, শ্বশুরবাড়ির সম্পদ হু হু করে বেড়েছে। সবার শ্বশুরবাড়ি ধনী, বাপের বাড়ি একটু গরিব। শাশুড়ি, শ্বশুর, ননদ, শালা, শালিকা সবার নামে সম্পদ করেছে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন- মহানগর জামায়াত আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- গাজীপুর-১ আসনে শাহ আলম বকশি, গাজীপুর-২ আসনের অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান, গাজীপুর-৩ আসনের মাওলানা এহসানুল হক, গাজীপুর-৪ সালাউদ্দিন আইউবী, গাজীপুর-৫ মোহাম্মদ খাইরুল হাসান ও গাজীপুর জেলা জামায়াত ইসলামের আমির ডা. জাহাঙ্গীর আলম, নায়েবে আমির মোহাম্মদ হোসেন আলী প্রমুখ।