Image description

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন অতীতের ১২টি নির্বাচনের মতো নয়। এটি একটি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ও পরিবর্তনের নির্বাচন। বিগত ১২টি নির্বাচনের মাধ্যমে যেভাবে দেশকে খাবলে, খামচে ও কামড়ে শেষ করে দেওয়া হয়েছিল- এই নির্বাচন তার বিপরীত ধারার নির্বাচন। এটি নতুন বাংলাদেশকে জাগিয়ে তোলার নির্বাচন, ৩৬ জুলাইয়ের যোদ্ধাদের সম্মান জানানোর নির্বাচন এবং যুবসমাজের আকাক্সক্ষা পূরণের নির্বাচন।

তিনি আরও বলেন, আগামীর নির্বাচন হবে আমাদের মা-বোনদের গর্ব, প্রশান্তি, নিরাপত্তা ও ইজ্জত-আব্রুর নির্বাচন।

আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পিরোজপুর সদরে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি শিশুদের নিরাপদ বেড়ে ওঠার নির্বাচন। এ দেশের কামার, কুমার, তাঁতি, মুটে, মাঝি, শ্রমিক ও কৃষক- সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নের নির্বাচন। অতীতে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। আগামীর নির্বাচন সেই পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার নির্বাচন। এটি বাংলাদেশকে সুষম উন্নয়ন উপহার দেওয়ার নির্বাচন। কোনো মামা-খালুর টেলিফোনে আর নির্বাচন হবে না। এটি ইনসাফের ভিত্তিতে উন্নয়নের নির্বাচন। যুবকদের হাতে মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান তুলে দেওয়ার নির্বাচন এবং বেকার ভাতার লোভ দেখানোর রাজনীতি বন্ধ করার নির্বাচন।

তিনি বলেন, এক আমলে ১০ টাকার চাল খেয়ে পেটব্যথা শুরু হয়েছে, যা এখনো যায়নি। এখন আবার কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। কেউ বলছে ২ হাজার টাকা দেবে, কেউ ৭ হাজার, কেউ ২০ হাজার। কেউ আবার বলছে ৫ লাখ, ৫০ লাখ কিংবা ৫০ কোটি। ৫০ কোটি মানুষ কি বাংলাদেশে কিয়ামতের আগেও হবে- এটাই সন্দেহ! বাংলাদেশের মা-বোনেরা এখন এসব বুঝে ফেলেছে। তারা স্পষ্ট করে বলছে- যাদের হাতে আমাদের ইজ্জত, নিরাপত্তা ও সন্তানের জীবনের নিশ্চয়তা নেই, তাদের কার্ডের কোনো প্রয়োজন নেই।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, একটি দলের লোকেরা প্রকাশ্যে বলছে- হিজাব বা নিকাব পরা নারীদের টান মেরে খুলে ফেলা হবে। এ দেশে হিজাব বা নিকাব পরা কি অপরাধ? তারা আরও বলছে, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাইতে এলে কাপড় খুলে দেওয়া হবে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, কোনো মানুষ কি মায়ের গায়ের কাপড় খোলার কথা বলতে পারে? অথচ এসব বক্তব্যের পরও দলীয়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা প্রমাণ করে দলটির নীরব সমর্থন রয়েছে। তিনি বলেন, এই অপমানের জবাব দেওয়ার মোক্ষম সময় হচ্ছে আগামী ১২ তারিখ।

তিনি বলেন, আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আজ এই মাঠে আপনাদের উপস্থিতিই প্রমাণ করে- আপনারা সেই হত্যার বিচার চান। সেই বিচারের জন্য আপনাদের একটি ভোট অত্যন্ত প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, যারা মানুষের সম্পদ লুট করে, চাঁদাবাজি করে, তাদের লাল কার্ড দেখানোর দিন হচ্ছে আগামী ১২ তারিখ। মামলাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও আধিপত্যবাদের দালালদের লাল কার্ড দেখাতে হবে। জুলাইয়ের সন্তান ও যোদ্ধারা আর কোনো আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর দুটি দাবি ছিল- এক, দেশে আর কোনো অবিচার ও বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না; দুই, কোনো আধিপত্যবাদ মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, আবরার ফাহাদ থেকে শুরু করে আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ যারা শহীদ হয়েছেন- ইনশাল্লাহ আমরা তাদের বিচার নিশ্চিত করব। তিনি পিরোজপুরবাসীর কাছে প্রত্যেকের একটি করে ভোট কামনা করেন। 

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আগামীতে কেউ ভোট চুরি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চিন্তা করলে- যত বড় শক্তিই হোক, আমরা ছেড়ে কথা বলব না। এই ভোট রক্ষায় আমরা লড়ে যাব। ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ১২ কোটি ৫০ লাখ ভোট নিশ্চিত করতে হবে। এখন থেকেই পাহারা শুরু হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি- ১৩ তারিখ থেকে যেন একটি নতুন বাংলাদেশ পাওয়া যায়। ১৩ তারিখের সূর্য যেন মুক্তির বার্তা নিয়ে উদিত হয়। এখানে আর গোলামি ও আধিপত্যবাদ চলবে না। পারিবারিক ও গোষ্ঠীগত রাজনীতি অচল হবে। দলীয় সরকারের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠিত হবে জনগণের সরকার। আমি জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না- আমি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।