ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ দিয়ে ৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও একটিতেও জয় পায়নি দলটি।
এমনকি নিজের নির্বাচনী দুর্গ চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনেও পরাজয় বরণ করেছেন তার ছেলে ওমর ফারুক। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন অলি আহমদ।
নির্বাচন-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নির্বাচনের নামে আমাদের ধোঁকা দেওয়া হয়েছে, সমগ্র জাতিকে বোকা বানানো হয়েছে। দিন-রাত সমানতালে ভোট ডাকাতি হয়েছে। যেসব প্রার্থী সাড়ে ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে বেশি ভোট পেয়েছেন, তাদের ব্যালটে ডাবল সিল মেরে বাতিল করা হয়েছে। কোথাও ভোট কম পড়লে নতুন করে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করা হয়েছে।
এসব কাজে অনেক প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সরাসরি জড়িত, যা দেশদ্রোহিতার শামিল।’
নিজের ছেলে ওমর ফারুকের পরাজয় প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওমর ফারুককে ভোট দিলেও প্রশাসন সেই ভোট ‘হাইজ্যাক’ করে তাকে হারিয়ে দিয়েছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ন্যক্কারজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমদ জামায়াতে ইসলামীসহ জোটের শরিকদের প্রতি একীভূত হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “এখন আমরা ১১ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতায় আছি। তবে এই ঐক্যকে সুদৃঢ় করতে হলে আমাদের নতুন নাম ও নতুন প্রতীক প্রয়োজন। এলডিপির ‘ছাতা’, জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ কিংবা ‘শাপলা কলি’ নয়-সবাইকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এক ছাতার নিচে আসতে হবে।” এতে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরো শক্ত হবে এবং দলগুলোর মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি দূর হবে বলে তিনি মনে করেন।
সর্বশেষে তিনি দাবি করেন, তার দলের প্রার্থীরা হারেননি বরং কারচুপির মাধ্যমে তাদের হারানো হয়েছে। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন এলডিপির সাথেই ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।




Comments