ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন দিনাজপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজা মল্লিক সীমু ওরফে শিমলা।
সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে বাবার বাড়িতে মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করলে তাকে দ্রুত দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খাদিজার পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক আত্মগোপনে রয়েছেন। এরপর থেকেই খাদিজা হাকিমপুর উপজেলা শহরের সিপি রোড এলাকায় বাবা বাবু মল্লিকের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ২০১৯ সালের ৮ জুন শিবলী সাদিকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। পারিবারিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ ও মানসিক চাপের কারণে তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং সোমবার মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেন।
হাসপাতালে ভর্তির আগে নিজের ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে খাদিজা তার ওপর হওয়া অন্যায়ের অভিযোগ আনেন। তিনি লেখেন, ‘আমি যথেষ্ট শক্ত ছিলাম, কিন্তু এই মুহূর্তে বিশ্রামের প্রয়োজন। দীর্ঘ ৭ বছর ধরে আমার সঙ্গে হওয়া অন্যায় ও জুলুম আমি আর নিতে পারছি না। বিয়ের ২-৩ মাস পর থেকেই এসব সহ্য করতে করতে আমি আজ ক্লান্ত, আমি শান্তিতে ঘুমাতে চাই।’
পোস্টে তিনি স্বামী শিবলী সাদিকসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন যে, তার এই পরিণতির জন্য তারাই দায়ী। নিজের মেয়ের উদ্দেশ্যে তিনি লেখেন, ‘স্নেহা, তোমার জন্য আমার দোয়া রইল। তুমি আমার জন্য যথেষ্ট লড়েছো।’ মা-বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তার এই সিদ্ধান্ত ভুল হলেও পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করেছে।
জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের কর্তব্যরত চিকিৎসক মুসা আল আশারী জানিয়েছেন, রাত সোয়া আটটার দিকে খাদিজাকে হাসপাতালে আনা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে শিবলী সাদিকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে সংগীতশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমার বিয়ে হয়। পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও বনিবনা না হওয়ার কারণে রাজধানীর ধানমন্ডিতে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে সমঝোতার মাধ্যমে তাঁদের বিচ্ছেদ হয় ২০১৬ সালে। এরপর ২০১৯ সালে খাদিজা মল্লিকের সঙ্গে দ্বিতীয় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শিবলী সাদিক।




Comments