একাত্তরে বিএনপির জন্মই হয়নি, নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য শফিকুর রহমানের
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির কোনো অস্তিত্ব ছিল না। ফলে একাত্তর কীভাবে তাদের হয়, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বিএনপি এখন গর্ব করে বলে একাত্তর, নব্বই ও চব্বিশ—সবই তাদের। কিন্তু সত্য হলো একাত্তরে তো বিএনপির জন্মই হয়নি। আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে সম্মান করি, তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এবং যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু এককভাবে কোনো ব্যক্তিকে বা দলকে যুদ্ধের সব কৃতিত্ব দিয়ে দিলে বাকি যোদ্ধাদের অবস্থান কোথায় থাকে?”
তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলেও আওয়ামী লীগ যুদ্ধকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করেছে এবং জিয়াউর রহমানকে নানাভাবে অপমান করেছে। আমরা সেই প্রতিহিংসার রাজনীতি আর দেখতে চাই না।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, “সংসদেই বর্তমান সরকারি দলের সদস্য মীর শাহ আলম স্বীকার করেছেন যে তারা নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করেছেন। তিনি বলেছেন, ড. ইউনূস লন্ডনে গিয়ে ট্রফি তুলে দিয়েছেন। যদি ড. ইউনূস সত্যিই এমন কিছু করে থাকেন, তবে আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই। এই আত্মস্বীকৃতির মাধ্যমে এটিই প্রমাণিত হলো যে নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগটি সত্য ছিল।”
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সত্তর শতাংশ মানুষ ভোট দিলেও সেই ফল কেন ঘরে তোলা যায়নি, তা সবার জানা। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ঘুঘু বার বার ধান খেয়ে গেলেও এবার ইনশাল্লাহ জালে ধরা পড়বে।’
সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তারা এখন বলছে গণভোট ‘হারাম’। অথচ বাংলাদেশের প্রথম গণভোট দিয়েছিলেন একজন সামরিক ব্যক্তি, যখন সংবিধানে এর কোনো বিধানই ছিল না।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments