Image description

ঢাকার ধামরাইয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন ও প্রেস ব্রিফিং চলাকালে দলীয় নেতাকর্মীদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে উপজেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক নাজমুল হককে (২৮) গ্রেফতার করেছে।

মামলা ও গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হুদা খান। গ্রেফতারকৃত নাজমুল হককে রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল বিকেলে উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়নের কালামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তর কমিটির আত্মপ্রকাশ ও কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান চলাকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আসাদুল ইসলাম মুকুল ও অ্যাডভোকেট শাওনের নির্দেশে একদল সশস্ত্র কর্মী হাতুড়ি, রড ও লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের এক সদস্যকেও মারধর করা হয়।

মামলার বাদী এনসিপি নেতা এস এম শামিউর রহমান অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাকে রক্তাক্ত জখম করে তার স্বর্ণের আংটি ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া এমদাদ নামে অন্য এক কর্মীকে তুলে নিয়ে মারধর করে তার মোবাইল ও নগদ টাকা লুট করা হয়। হামলায় মারাত্মক আহত ঢাকা জেলা উত্তরের নেতা আজহারুল ইসলাম ও মফিদুল ইসলামসহ ৫ জনকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন—ইসরাফিল ইসলাম খোকন, সরোয়ার জাহান সিদ্দিক, সামিউল ইসলাম লিমন, আসাদুল ইসলাম মুকুল, মেহেদী হাসান হৃদয়, আমানউল্লাহ শিব্বির, রনি আহমেদ, মুফতি শহীদুল্লাহ শুয়াইব, জুলকার নাইন, আশিকুর রহমান প্রমুখ।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এনসিপির ভেতরে কিছু সুযোগ সন্ধানী দালাল ঢুকে পড়েছে। তারা জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে বিক্রি করতে চায়। এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ আল মামুন জানান, মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে নাজমুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর