দেশে কোনো দলের একক আধিপত্যবাদ বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে সংসদ ও রাজপথ থেকে একযোগে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত বিশাল গণসমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় ও ‘জুলাই সনদ’-এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
তীব্র গরম ও তাপদাহ উপেক্ষা করে জুমার নামাজের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আলেম সমাজের ত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণেই দেশে জ্বালানি সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেশে কোনো একক দলীয় আধিপত্যবাদ এবং ফ্যাসিবাদ বরদাশত করবে না ১১ দলীয় ঐক্য। সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে বিধায় আমাদের রাজপথে নামতে হয়েছে। নতুন করে কেউ যদি ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে চায়, তবে তাদের বলব—পতিত স্বৈরাচারের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিন।” তিনি আরও বলেন, “১১ দলীয় ঐক্য জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করবে না। যারা বেঈমানি করার চেষ্টা করবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।”
এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এই পরিবর্তন হবে অর্থবহ। কিন্তু গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সরকার যদি ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটে, তবে আমরা সংসদ ও রাজপথ থেকে একযোগে লড়াই শুরু করব।”
সমাবেশ থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ৯০ দিনের জন্য দেশব্যাপী একগুচ্ছ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে জেলা ও বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ, গণসংযোগ এবং মহাসমাবেশ। সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা সম্মিলিতভাবে দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments