দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর পর্যটন নগরী মালদ্বীপে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবার (২০ মার্চ) দেশটিতে মুসলমানদের এই সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পালিত হয়। রাজধানী মালের জাতীয় ঈদগাহসহ বড় বড় মসজিদগুলোতে স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি কয়েক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি ঈদের নামাজে শামিল হন।
নামাজ ও খুতবা শেষে স্থানীয় জনসাধারণের পাশাপাশি সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গেও ঈদের কুশল বিনিময় করেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু। ভোর থেকেই রঙিন পাজামা-পাঞ্জাবি পরে ঈদগাহের দিকে ছুটে চলার মধ্য দিয়ে প্রবাসীদের ঈদ আনন্দ শুরু হয়। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময়ে মুখরিত হয়ে ওঠে পরিবেশ। তবে এই আনন্দের মাঝেও অনেকের কন্ঠে ফুটে ওঠে দেশের মাটির গন্ধ আর প্রিয়জনদের ছেড়ে আসার আকুলতা।
ঈদ উপলক্ষে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশি মালিকানাধীন হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে আয়োজন করা হয় দেশীয় হরেক পদের খাবারের। প্রবাসীরা দলবদ্ধভাবে এসব খাবারের স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি রাজধানী মালে ও আশপাশের দ্বীপে ঘুরে ঈদের আনন্দ উপভোগ করেন এবং মুঠোফোনে দেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ভাগাভাগি করেন।
এক লিখিত বার্তায় প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু মালদ্বীপসহ বিশ্বের সকল মুসলিম সম্প্রদায়কে ঈদ মোবারক জানিয়েছেন। বার্তায় তিনি ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের নির্যাতিত মুসলমানদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের আশা প্রকাশ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মালদ্বীপের জনগণ সব সময় থাকবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশনের শ্রম কাউন্সেলর মো. সোহেল পারভেজ দেশবাসী ও প্রবাসীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়া মালদ্বীপ শাখা বিএনপির সভাপতি মো. খলিলুর রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দলের বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
তবে এবারের ঈদে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির ছাপ লক্ষ্য করা গেছে। পর্যটন ও আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশ মালদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ব্যয় সংকোচনের কথা বিবেচনায় রেখে এবার সরকারিভাবে কোনো জমকালো অনুষ্ঠান বা আলোকসজ্জা ছাড়াই সাদামাটাভাবে ঈদ উদযাপিত হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments