ইসলামের ইতিহাসে জমজমের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি পৃথিবীর সর্বোত্তম পানি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা পূর্ণ হয়।" (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩০৬২)। তাই এই পবিত্র পানি পানের সময় কিছু আদব বজায় রাখা সুন্নাহ ও বরকতের কারণ।
জমজমের পানি পানের সুন্নাহসম্মত আদবসমূহ
নিয়ত করা
জমজমের পানি পানের আগে মনে মনে একটি সৎ উদ্দেশ্য বা নিয়ত করা। রোগমুক্তি, জ্ঞান বৃদ্ধি কিংবা নেক মকসুদ হাসিলের জন্য দোয়া করা। কারণ জমজমের পানি পানের সময় দোয়া কবুল হয়।
কিবলামুখী হওয়া
পবিত্র কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে বা বসে এই পানি পান করা মুস্তাহাব। এটি বিনয় ও সম্মানের বহিঃপ্রকাশ।
বিসমিল্লাহ বলা
যেকোনো খাবার বা পানীয়র শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া আবশ্যক। জমজমের ক্ষেত্রেও শুরুতে 'বিসমিল্লাহ' বলা।
দাঁড়িয়ে পান করা
সাধারণত পানি বসে পান করা সুন্নাহ, কিন্তু জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করার বিষয়ে হাদিসে বর্ণনা রয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জমজমের পানি পান করিয়েছি এবং তিনি দাঁড়িয়ে তা পান করেছেন।" (সহিহ বুখারি: ১৬৩৭)। তাই জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করা জায়েজ এবং এটি উলামায়ে কেরামের মতে বিশেষ আদব।
তিন শ্বাসে পান করা:
এক নিঃশ্বাসে সব পানি পান না করে অন্তত তিন শ্বাসে পান করা সুন্নাহ। প্রতিবার পান করার পর পাত্র থেকে মুখ সরিয়ে শ্বাস নেওয়া উচিত।
পেট ভরে পান করা
জমজমের পানি তৃপ্তি সহকারে বেশি করে পান করা। হাদিসে এসেছে, মুমিন ও মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্য হলো মুমিনরা পেট ভরে জমজমের পানি পান করে, আর মুনাফিকরা তা করে না।
শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলা
পান করা শেষ হলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে 'আলহামদুলিল্লাহ' বলা।
জমজমের পানি পানের দোয়া:
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) জমজমের পানি পান করার সময় একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন। আমরাও এই দোয়াটি পড়তে পারি
আরবি: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا وَاسِعًا، وَشِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআ, ওয়া রিজকান ওয়াসিআ, ওয়া শিফাম মিন কুল্লি দা-ইন।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, প্রশস্ত রিজিক এবং সমস্ত রোগ থেকে মুক্তি কামনা করছি। (মুস্তাদরাকে হাকেম)।
ফজিলত ও গুরুত্ব
-
রোগমুক্তি: এটি শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, বরং এটি ক্ষুধা নিবারণকারী খাবার এবং রোগমুক্তির মহৌষধ।
-
হৃদরোগের প্রতিষেধক: অনেক হাদিস বিশারদ ও চিকিৎসকের মতে, জমজমের পানি হৃদরোগ ও মানসিক প্রশান্তির জন্য বিশেষ কার্যকর।
-
ঈমানের পূর্ণতা: ভক্তিভরে এই পানি পান করা একজন মুমিনের ঈমানের পরিচায়ক।
জমজমের পানি পানের সময় আমাদের অন্তরে গভীর শ্রদ্ধা এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা থাকা জরুরি। সঠিক আদব মেনে এই পানি পান করলে ইনশাআল্লাহ আমাদের ইহকালীন ও পরকালীন প্রভূত কল্যাণ সাধিত হবে।
Comments