Image description

পবিত্র রমজান মাসে তারাবির নামাজ নিয়ে মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও মতভেদ রয়েছে। তারাবি ফরজ বা ওয়াজিব নয়; অধিকাংশ আলেমের মতে এটি সুন্নত। তবে এ ইবাদতের প্রকৃত রূপ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি বলে মনে করেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।

হাদিস সূত্রে জানা যায়, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) জীবনের শেষ রমজানে দু’দিন, অন্য বর্ণনায় তিন দিন সাহাবিদের নিয়ে জামাতে রাতের নামাজ আদায় করেন। পরবর্তী দিন সাহাবিরা অপেক্ষা করলেও তিনি আর বের হননি। ফজরের সময় তিনি বলেন, নিয়মিত আদায় করলে তা উম্মতের ওপর ফরজ হয়ে যেতে পারে— এমন আশঙ্কায় তিনি বিরত ছিলেন (সহিহ বুখারি, ১১২৯)।

বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ আছে, সে নামাজ ছিল অত্যন্ত দীর্ঘ। ফলে অনেক আলেমের মতে, সে সময় রাকাত সংখ্যা নয়— বরং নামাজের গভীরতা ও খুশু-খুজুই ছিল মুখ্য বিষয়।

তারাবির রাকাত সংখ্যা নিয়ে মূলত দুটি মত প্রচলিত। একদল আলেমের মতে, ৮ রাকাতই সুন্নত; হযরত আয়শা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.)-এর ১১ রাকাত (৮ রাকাত নফল ও ৩ রাকাত বিতর) রাতের নামাজের কথা এসেছে (সহিহ বুখারি, ১৯০৯)। অন্যদল মনে করেন, খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর সময় ২০ রাকাত জামাতে আদায়ের প্রচলন সাহাবিদের ঐকমত্যে প্রতিষ্ঠিত হয়, যা শরিয়তসম্মত।

তবে প্রখ্যাত আলেম যেমন ইবনু আবদুল বার, ইবনু তাইমিয়া ও ইমাম সুয়ুতি (রহ.) প্রমুখ এ বিষয়ে সমন্বয়মূলক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, রাসুল (সা.) ৮ রাকাত পড়তেন, তবে তা ছিল দীর্ঘ কেরাতে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে হযরত উমর (রা.) কেরাত সংক্ষিপ্ত করে রাকাত সংখ্যা বাড়িয়ে ২০ নির্ধারণ করেন।

আলেমদের মতে, মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ইবাদতের মান ও আন্তরিকতা; রাকাত সংখ্যা নিয়ে অতিরিক্ত বিতর্ক নয়। দীর্ঘ কেরাতে ৮ রাকাত কিংবা সংক্ষিপ্ত কেরাতে ২০ রাকাত— উভয়টিই গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যার আলোকে চর্চিত হয়ে আসছে।

রমজানের এ ইবাদত মুসলমানদের জন্য গুনাহ মাফের এক বিশেষ সুযোগ। তাই মতভেদ নয়, বরং ঐক্য ও ইবাদতের মান বৃদ্ধিতেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানবকণ্ঠ/আরআই