Image description

রমজান মাসে সেহরির সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগে অনেকেই তাড়াহুড়ো করে একসঙ্গে কয়েক গ্লাস পানি পান করেন। অনেকেরই ধারণা, এতে সারাদিন তৃষ্ণা কম লাগবে। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদদের মতে, এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল; এটি কেবলই সাময়িক মানসিক স্বস্তি দেয়।

ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারের সিনিয়র পুষ্টিবিদ শরীফা আক্তার শাম্মীর মতে, রোজা রাখলে দীর্ঘক্ষণ শরীর পানিশূন্য থাকে ঠিকই, কিন্তু একসঙ্গে অতিরিক্ত পানি পান করলে শরীর তা ধরে রাখতে পারে না। মানবদেহের তরল ভারসাম্য একটি নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া। স্পঞ্জের মতো পানি জমিয়ে রাখার ক্ষমতা শরীরের নেই। ফলে সেহরির শেষ পাঁচ মিনিটে চার-পাঁচ গ্লাস পানি পান করলেও, কিডনি তার বড় অংশই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়।

অল্প সময়ে অতিরিক্ত পানি পানের ফলে পেটে ভারী ভাব, অম্বল, ঢেকুর ওঠা বা অস্বস্তি হতে পারে। এছাড়া বারবার প্রস্রাবের বেগ আসায় রোজাদারের ঘুমেও ব্যাঘাত ঘটে। খুব বিরল ক্ষেত্রে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রাও সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে।

সারাদিন তৃষ্ণা কেন বাড়ে? সারাদিন তৃষ্ণা লাগার অন্যতম কারণ শুধু পানির ঘাটতি নয়। সেহরিতে অতিরিক্ত লবণাক্ত, ভাজাপোড়া বা মশলাদার খাবার এবং অতিরিক্ত চা-কফি খেলে শরীর দ্রুত পানি হারায়। লবণ তৃষ্ণা বাড়ায় এবং ক্যাফেইন মৃদু মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে।

পানি পানের সঠিক নিয়ম কী? পুষ্টিবিদদের মতে, ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টিকে 'হাইড্রেশন উইন্ডো' হিসেবে কাজে লাগানো উচিত। এই সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা সবচেয়ে কার্যকর, যা শরীর ভালোভাবে শোষণ করতে পারে। এর পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় শসা, তরমুজ, টমেটোর মতো পানিসমৃদ্ধ ফল ও সবজি রাখা উচিত। ইফতারের পর থেকে নিয়মিত পানি পান করলে সেহরির সময় মাত্র ১-২ গ্লাস পানি পান করাই শরীরের জন্য যথেষ্ট।

তবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী এবং যারা বাইরে রোদে কাজ করেন, তাদের পানি পানের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রমজানের মূল শিক্ষা হলো সংযম, আর শরীরের সুস্থতার ক্ষেত্রেও এই নীতি প্রযোজ্য। সঠিক সময়ে পরিমিত ও ধীরে ধীরে পানি পান করাই সুস্থভাবে রোজা পালনের চাবিকাঠি।

মানবকণ্ঠ/আরআই