Image description

ইসলামিক শরিয়তে ‘ঈদ’ কেবল গতানুগতিক আনন্দ-উৎসব নয়, বরং এটি একটি পবিত্র ইবাদত। হিজরতের পর বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যখন মদিনায় পৌঁছালেন, তখন দেখলেন সেখানকার মানুষ বছরে দুটি বিশেষ দিনে আনন্দ-উৎসব ও খেলাধুলা করে। তখন তিনি ঘোষণা করলেন:

"আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে ওই দুটি দিনের পরিবর্তে তার চেয়েও উত্তম দুটি দিন দান করেছেন। তা হলো— ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা।" (আবু দাউদ)

১. কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন:
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা ও ত্যাগের পর মহান আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দাদের যে নেয়ামত ও ধৈর্য শক্তি দিয়েছেন, তার শুকরিয়া স্বরূপ ঈদুল ফিতর পালন করা হয়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক বিশেষ উপহার বা পুরস্কারের দিন।

২. সিয়াম সাধনার মহিমা:
ঈদুল ফিতর মূলত এক মাস কঠোর আত্মসংযম ও তিতিক্ষার ফসল। এই দিনটি মুমিনদের মনে করিয়ে দেয় যে, ত্যাগের মাধ্যমেই প্রকৃত সুখ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব। এটি মূলত আত্মার পরিশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক বিজয়ের উৎসব।

৩. সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন:
ঈদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা হলো সামাজিক সম্প্রীতি। এদিন ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই একই কাতারে দাঁড়িয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করে। ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে সমাজের অভাবী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানো ঈদের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা মানবিক সংহতিকে সুদৃঢ় করে।

৪. পরিমিত ও শালীন আনন্দ:
ইসলামে ঈদের আনন্দ মানেই উচ্ছৃঙ্খলতা, অশ্লীলতা বা অপচয় নয়। বরং ইসলামের বিধান অনুযায়ী শালীনতা বজায় রেখে, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নিয়ে এবং হালাল বিনোদনের মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করাই হলো প্রকৃত সুন্নাহ।

ঈদের এই মহিমা যেন আমাদের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিফলন ঘটে, সেটিই হোক এবারের ঈদের মূল লক্ষ্য।

মানবকণ্ঠ/ডিআর