Image description

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ গভীর রাতে এক ফেসবুক লাইভে এসে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "প্রিয় বাংলাদেশবাসী, আমরা সরি। আমরা আসলে পারছি না। তবে এর মানে এই নয় যে আমরা হাল ছেড়ে দেবো। আমরা আমাদের জায়গা থেকে চূড়ান্ত ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।"

রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি যুক্ত হয়ে তিনি পুলিশ সংস্কার, মানবাধিকার কমিশন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন।

লাইভে হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, পুলিশ সংস্কার কমিশনের অধ্যাদেশটি সংসদে উপস্থাপনই করতে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশের ক্ষোভ নিরসন ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে একটি প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছিল, কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকার তা বাতিল করে দিয়েছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, সরকার পুলিশকে আবারও একটি লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত করতে চায়।"

মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গুম কমিশনের সাথে মানবাধিকার কমিশন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আগে অধ্যাদেশে ছিল কমিশন চাইলে বাহিনীর বিরুদ্ধে নিজ থেকেই তদন্ত করতে পারবে। কিন্তু সরকার ২০০৯ সালের পুরনো আইন পুনর্বহাল করে কমিশনকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে গেছে। হাসনাত প্রশ্ন তোলেন, এর মাধ্যমে সরকার কি আবারও গুম-খুনের রাজনীতিতে ফিরে যেতে চায়?

সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করার কঠোর সমালোচনা করে এই ছাত্রনেতা বলেন, বিচার বিভাগকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে রেখে আবারও রাজনীতিকরণ করা হচ্ছে। এর ফলে নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং ভবিষ্যতে আবারও 'জাস্টিস মানিক'-এর মতো বিতর্কিত বিচারপতি তৈরি হওয়ার পথ প্রশস্ত হবে।

সবশেষে তিনি বলেন, পরিস্থিতির প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তারা পিছু হটবেন না।

মানবকণ্ঠ/আরআই