যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের তৈরি হয়েছে। বক্তব্যকে কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের দাবি উঠেছে জার্মানিতে।
দেশটির শীর্ষ ক্লাব সেন্ট পাউলির সভাপতি ও জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফবি) সদস্য ওকে গটলিখ বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ বয়কট নিয়ে আলোচনা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে গটলিখ বলেন, ‘আশির দশকে অলিম্পিক গেমস বয়কটের যে কারণগুলো দেখানো হয়েছিল, সেগুলোর সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করলে আমার হিসাব অনুযায়ী এখনকার সম্ভাব্য হুমকি আরও বড়। এই বিষয় নিয়ে আমাদের আলোচনা করা দরকার।’
গটলিখ প্রশ্ন রেখে বললেন, ‘কাতার বিশ্বকাপকে সবাই অতিমাত্রায় রাজনৈতিক বলে সমালোচনা করেছে। অথচ এখন কি আমরা পুরোপুরি রাজনীতিমুক্ত হয়ে গেছি? এই বিষয়টাই আমাকে খুব, খুব, খুব চিন্তিত করে।’
সেন্ট পাউলির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গটলিখ জানান, বিশ্বকাপ বয়কট হলে সেটি তাঁর ক্লাবের খেলোয়াড়দের জন্য ক্ষতিকর হবে না। তাঁর ভাষায়, ‘একজন পেশাদার ফুটবলারের জীবন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হামলা কিংবা হুমকির মুখে থাকা অসংখ্য মানুষের জীবনের চেয়ে বেশি মূল্যবান হতে পারে না—বিশ্বকাপ আয়োজক দেশগুলোর সিদ্ধান্ত ও অবস্থানের কারণে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’
তবে গটলিখের এই আহ্বান জার্মান ফুটবলে একমত প্রতিক্রিয়া পাবে না বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি বের্ন্ড নয়েনডর্ফ এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করতে পারেন।
এর আগে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার ইঙ্গিত জার্মান রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। জার্মান পার্লামেন্টে সিডিইউ/সিএসইউ জোটের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক মুখপাত্র ইউর্গেন হার্ড্ট—যিনি চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত—২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মানবিক প্রশ্ন জড়িয়ে পড়ায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে এই আহ্বান। আগামী দিনে জার্মানি কিংবা ইউরোপের অন্য দেশগুলো এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সে দিকেই তাকিয়ে আছে ফুটবলবিশ্ব।




Comments