টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে আলোচিত ও আর্থিকভাবে লাভজনক ম্যাচ ভারত–পাকিস্তান। আইসিসির কথিত ‘দ্বিমুখী নীতি’র সমালোচনা করে এই ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে শেষ পর্যন্ত সরকারের নির্দেশে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা। বিরাট কোহলির শৈশবের কোচ রাজকুমার শর্মার মতে, পুরো বিষয়টিই ছিল পাকিস্তানের সাজানো ‘নাটক’।
সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় রাজকুমার শর্মা বলেন, ভারতের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্ত ছিল পাকিস্তানের চিরাচরিত নাটকীয় আচরণের অংশ। তার ভাষায়, ভারতের বিপক্ষে না খেললে যে কত বড় ক্ষতি হতে পারে, সেটা বুঝতেই শেষ পর্যন্ত ইউ-টার্ন নিতে হয়েছে পাকিস্তানকে।
রাজকুমার শর্মা বলেন, “এটা ছিল পাকিস্তানের নাটক, যেটা তারা প্রায়ই করে। বাংলাদেশকে একসময় সমর্থন দিল, পরে আবার তাদের একপাশে সরিয়ে রাখল। এখন বুঝতে পারল ভারতের সঙ্গে না খেললে কতটা ক্ষতি হবে। এই ধরনের আচরণ পাকিস্তানের কাছ থেকে নতুন কিছু নয়।”
এরই মধ্যে সোমবার পাকিস্তান সরকার ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। আইসিসি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে লাহোরে অনুষ্ঠিত বৈঠকের ফলাফল পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে অবহিত করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচ ভারতের বাইরে আয়োজনের অনুরোধ জানালেও আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে। বরং বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হিসেবেই পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল।
পরবর্তীতে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গেও কথা বলেন। আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার ভারত ম্যাচে অংশগ্রহণের সবুজ সংকেত দেয়।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments