Image description

নবগঠিত সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। সংসদ সদস্য না হয়েও সংবিধান অনুযায়ী টেকনোক্র্যাট কোটায় তাকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের অবদান এবং দলের সঙ্গে সক্রিয় সম্পৃক্ততা-দুটি বিবেচনায় তার নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-১৬ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আমিনুল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কর্নেল (অব.) মো. আবদুল বাতেনের কাছে পরাজিত হন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। এরপর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কার হাতে যাবে তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছিল, যার পরিণতি হল সাবেক গোলরক্ষক আমিনুলের হাতে দায়িত্ব দেওয়া।

বাংলাদেশে এটি প্রথমবারের ঘটনা, যেখানে একজন সাবেক ক্রীড়াবিদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর বা টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হয়েছেন। স্বাধীনতার পর সাবেক ফুটবলার মেজর হাফিজ মন্ত্রীত্ব পেয়েছিলেন, আর সাবেক জাতীয় ফুটবলার আরিফ খান জয় ক্রীড়া উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে টেকনোক্র্যাট হিসেবে সাবেক কোনো ক্রীড়াবিদের মন্ত্রী হওয়ার নজির ছিল না।

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু করা আমিনুল প্রায় দুই দশক দেশের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলেছেন ফরাশগঞ্জ, আবাহনী, মোহামেডান ও মুক্তিযোদ্ধাসহ একাধিক দলে। জাতীয় দলের এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে তিনি ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০১০ সালের এসএ গেমসে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দেন।

ফুটবল ক্যারিয়ার শেষের পর সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন আমিনুল। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আহ্বায়ক। সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সদস্য টেকনোক্র্যাট হিসেবে নেওয়া যায়। ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্বের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আমিনুলকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই