ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ যৌথ হামলায় প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য নিরীহ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত উঠে আসছে সাধারণ মানুষের আহাজারির চিত্র। দেশ থেকে প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে থাকলেও মন পড়ে আছে জন্মভূমিতে। তাই দেশের পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে অঝোরে কাঁদলেন ইরান নারী ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড সারা দিদার।
নারী এশিয়ান কাপ খেলতে ইরান দল এখন গোল্ড কোস্টে অবস্থান করছে। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে ইরান। এই ম্যাচের আগে আজ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সারা দিদার। ছলছল চোখে তিনি বলেন, "ইরানে যা ঘটছে, তাতে সেখানে থাকা পরিবার ও প্রিয়জনদের নিয়ে আমরা অত্যন্ত চিন্তিত। আমি সত্যিই আশা করি সামনে আমরা ভালো খবর পাব। আমাদের দেশ শক্তভাবে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠবে।"
সংবাদ সম্মেলনে সারার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইরানের কোচ মারজিয়া জাফারি। তিনিও বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। কোচ বলেন, "আমরা আমাদের পরিবার ও দেশের মানুষের জন্য ভীষণ উদ্বিগ্ন। কেউ যুদ্ধ পছন্দ করে না। তবে আমরা এখানে পেশাদার ফুটবল খেলতে এসেছি। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও পরবর্তী ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।"
গত ম্যাচে ইরান দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে। তবে সেই ম্যাচে প্রবাসী ইরানিদের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিলেন তারা। কোচ জাফারি আশা করছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও তারা ভালো করবেন এবং ভক্তদের মুখে হাসি ফোটাবেন। তিনি বলেন, "এখানকার ইরানি-অস্ট্রেলীয়রা আমাদের অনেক সমর্থন করছেন। তাঁরা যেন আমাদের নিয়ে গর্ব করতে পারেন, আমরা সেই চেষ্টাই করব।"
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এই যুদ্ধাবস্থায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যেই চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমনকি দুবাইয়ের পাম জুমেইরা রিসোর্টেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধের এই ডামাডোলে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও এখন প্রিয়জনদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি চিন্তিত ইরানি নারী ফুটবলাররা।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments