‘ক্রীড়াই শক্তি, ক্রীড়াই বল’—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে আজ ৬ এপ্রিল সারা দেশে পালিত হচ্ছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস। টেকসই উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় খেলাধুলার গুরুত্বকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে প্রতি বছর এই দিনে দিবসটি পালন করা হয়। বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপনে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
দিবসটি উপলক্ষে সোমবার সকাল ১০টায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল হক। একই সময়ে অনুষ্ঠানটি ভার্চুয়ালি সারা দেশের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) জন্য সম্প্রচার করা হবে, যাতে স্থানীয় পর্যায়েও ক্রীড়ার গুরুত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৮৯৬ সালের ৬ এপ্রিল গ্রিসের অ্যাথেন্সে আধুনিক যুগের প্রথম অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধন হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০১৩ সালের ২৩ আগস্ট জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ৬ এপ্রিলকে ‘আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি নিয়মিত পালিত হয়ে আসছে।
জাতিসংঘের মতে, খেলাধুলা কেবল বিনোদন নয়, বরং এটি শান্তি রক্ষা, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ, লিঙ্গ সমতা এবং বর্ণবাদ ও জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। ২০১৫ সালে জাতিসংঘ ক্রীড়াকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (SDG) অন্তর্ভুক্ত করে। ২০২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিকের প্রাক্কালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং আইওসি সভাপতির উদ্যোগে ‘স্পোর্ট ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক এক ঐতিহাসিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে খেলাধুলার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের অঙ্গীকার করা হয়।
বাংলাদেশেও তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আজকের এই দিবসটি ক্রীড়াবিদ, সংগঠক এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য নতুন করে উদ্দীপনা নিয়ে আসবে এবং একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments