আগামী ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) প্রধান মেহেদি তাজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের প্রকৃত আয়োজক ফিফা, কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা ব্যক্তি নয়।
একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানের সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-এর প্রতি কোনো প্রকার অবমাননা বরদাশত করা হবে না।
সম্প্রতি ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে যাওয়ার পথে কানাডা সীমান্ত থেকে ইরানি প্রতিনিধিদলকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কানাডার অভিবাসন মন্ত্রণালয় জানায়, আইআরজিসি-র সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মেহেদি তাজের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আইআরজিসি কানাডা ও আমেরিকায় ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হলেও ইরানের কাছে এটি একটি অত্যন্ত সম্মানীয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আগামী ২০ মে জুরিখে ফিফার সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ইরান। বৈঠকের আগে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেহেদি তাজ বলেন, "বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য আমাদের উপযুক্ত গ্যারান্টি প্রয়োজন। আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতীক এবং আইআরজিসি-কে অপমান করার অধিকার কারও নেই। আমরা যোগ্যতা অর্জন করেই বিশ্বকাপে যাচ্ছি, তাই আমাদের আতিথেয়তা দেওয়ার দায়িত্ব ফিফার।"
তিনি আরও যোগ করেন, যদি ফিফা প্রকৃত আয়োজক হয়, তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বা সামরিক প্রতিষ্ঠানকে অবমাননা করা চলবে না। অন্যথায় কানাডার মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
আগামী ১১ জুন থেকে আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাওয়া এই ফুটবল আসরে ইরানের গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আইআরজিসি-র সঙ্গে যুক্ত কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ইরানি দল আমেরিকায় খেলবে।
ভিসা জটিলতা, নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক বৈরিতার এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ এখন বড় ধরনের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments