বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরে দুর্নীতি ও আইসিসির দুর্নীতি দমন বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে চারজন ক্রিকেটার, কর্মকর্তা ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিককে অভিযুক্ত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একইসঙ্গে সামিনুর রহমান নামে একজনকে বিসিবির 'বহিষ্কারাদেশ নীতি' অনুযায়ী নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযুক্ত চারজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং আগামী ১৪ দিনের মধ্যে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন:
১. লাবলুর রহমান: টিম ম্যানেজার, চট্টগ্রাম রয়্যালস। (অভিযোগ: তদন্তে অসহযোগিতা ও তথ্য গোপন করা)।
২. তৌহিদুল হক তৌহিদ: ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক, নোয়াখালী এক্সপ্রেস। (অভিযোগ: তদন্তে বাধা সৃষ্টি ও অসহযোগিতা)।
৩. অমিত মজুমদার: ক্রিকেটার। (অভিযোগ: ক্রিকেট ম্যাচে বাজি ধরা)।
৪. রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী: টিম ম্যানেজার, সিলেট টাইটান্স। (অভিযোগ: ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল ও পরিচালনার বিষয়ে বাজি ধরা)।
বিসিবি জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খেলোয়াড় ও এজেন্টদের কাছে দুর্নীতিমূলক প্রস্তাব দেওয়া, বেটিং-সংক্রান্ত কার্যকলাপ এবং আন্তর্জাতিক বেটিং চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া সামিনুর রহমান বিপিএলের ৯ম, ১০ম ও ১১তম আসরে দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন। তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় কোনো আপিল ছাড়াই শাস্তি মেনে নিয়েছেন।
বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তদন্তে বাধা দেওয়া বা তথ্য গোপন করা বড় ধরনের অপরাধ। লাবলুর রহমান ও তৌহিদুল হকের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, ক্রিকেটার অমিত মজুমদার এবারের আসরে না খেললেও তার কর্মকাণ্ড নজরদারিতে ছিল এবং বাজিতে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
দেশের ক্রিকেটের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি বজায় রাখতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বিসিবি।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments