ফিফা বিশ্বকাপে তাপমাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জলবায়ু গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উত্তর আমেরিকার ভেন্যুগুলোতে অস্বাভাবিক গরমের ঝুঁকি রয়েছে, যা খেলোয়াড় ও দর্শকদের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জলবায়ুবিষয়ক গবেষণা নেটওয়ার্ক ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য ১০৪ ম্যাচের মধ্যে অন্তত ২৬টি ম্যাচে ‘ওয়েট বাল্ব গ্লোব টেম্পারেচার’ বা ডাব্লিউবিজিটি ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এই সূচক শুধু তাপমাত্রা নয়, আর্দ্রতা, সূর্যের তাপ ও বাতাসের প্রভাব মিলিয়ে মানুষের শরীর কতটা ঠান্ডা থাকতে পারছে, সেটিও পরিমাপ করে। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের তুলনায় এই ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ।
আন্তর্জাতিক ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রোর মতে, ডাব্লিউবিজিটি ২৬ ডিগ্রিতে পৌঁছালে খেলোয়াড়দের ওপর তাপজনিত চাপ বাস্তব ঝুঁকিতে পরিণত হয়। আর ২৮ ডিগ্রি বা তার বেশি হলে ম্যাচ স্থগিত বা পিছিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করে সংগঠনটি।
গবেষণায় বলা হয়েছে, অন্তত পাঁচটি ম্যাচ এমন পরিস্থিতিতে হতে পারে, যেখানে ডাব্লিউবিজিটি ২৮ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাবে। সেই ম্যাচগুলো স্থগিত করার পরামর্শ দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো মিলিয়ে ১৬টি স্টেডিয়ামে আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপ।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই অতিরিক্ত গরমের বিষয়টি মাথায় রেখে ম্যাচের প্রতি অর্ধে ‘কুলিং ব্রেক’ বাধ্যতামূলক করেছে ফিফা।
বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। গবেষকদের মতে, সেই ম্যাচে ডাব্লিউবিজিটি ২৬ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে আটটির মধ্যে একবার, আর ২৮ ডিগ্রির ঝুঁকি প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ।
গবেষণার সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের জলবায়ুবিজ্ঞান অধ্যাপক ফ্রেইডিরিকে ওট্টো বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরও যদি বাতিল পর্যায়ের গরমের ঝুঁকিতে থাকে, তাহলে সেটি ফিফা ও সমর্থকদের জন্য বড় সতর্কবার্তা হওয়া উচিত।’




Comments