ব্যাটারিচালিত রিকশাচালককে মারধর করে ‘হত্যার’ পর মার্কেটের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়েছে- এমন গুজব ছড়িয়ে রাজধানীর উত্তরার ‘উত্তরা স্কয়ার’ শপিংমলে ভাঙচুর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালিয়েছে একদল মানুষ। এ সময় ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গেও হামলাকারীদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যরা যোগ দেন। এ ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল রোববার রাত ১১টার পর ওই সংঘর্ষ শুরু হয়ে চলে সোমবার ভোর পর্যন্ত। আজও রিকশাচালকসহ বিভিন্ন লোকজন জড়ো হয়ে মার্কেটে হামলার চেষ্টা চালায়।
ব্যবসায়ীদের দাবি, হামলাকারীরা শপিংমলে ঢুকে দোকান ভাঙচুরের পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্য ও ক্যাশ থেকে টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।
পুলিশ ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ওই শপিংমলে কোনো রিকশাচালককে মারধর করে আটক করে রাখা হয়নি। গুজব ছড়িয়ে কিছু দুষ্কৃতকারী মার্কেটে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশ, ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার রাত ১১টার দিকে ওই শপিংমলের সামনে ব্যাটারিচালিত রিকশা পার্কিং করে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করেন একজন চালক। এ সময় মার্কেটটির একজন নিরাপত্তাকর্মী ওই চালককে রিকশা সরিয়ে নিতে বলেন। চালক সেখান থেকে সরতে রাজি না হওয়ায় নিরাপত্তাকর্মী রিকশার পেছনে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। তখন দুজনের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় আরও কয়েকজন রিকশাচালক সেখানে জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ পর গুজব ছড়ানো হয়, একজন রিকশাচালককে হত্যা করে মার্কেটের ভেতর লাশ লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এই গুজবে ওই এলাকার আরও রিকশাচালক সেখানে জড়ো হয়ে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা মার্কেটে ইটপাটকেল ছোড়ে। একপর্যায়ে তারা মার্কেটের নিচতলায় ঢুকে দোকানে ভাংচুর চালায়। এ সময় সুযোগসন্ধানী কিছু মানুষ মার্কেটে ঢুকে ভাঙচুরে অংশ নেয়। হামলার একপর্যায়ে নিচতলার বিভিন্ন দোকান থেকে পণ্য ও টাকা লুটপাট করা হয়। ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। খবর পেয়ে প্রথমে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে ঢাকা-১৮ আসনের (উত্তরা এলাকা) সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনাস্থলে যান। শপিংমলের ভেতরে পরিদর্শন শেষে তিনি হামলকারীদের উদ্দেশে বলেন, কোনো রিকশাচালককে মার্কেটে মারধর বা আটকে রাখার ঘটনা ঘটেনি।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি কাজী মো. রফিক আহমেদ বলেন, গুজবে কান দিয়ে উত্তেজিত রিকশাচালক ও কিছু সুযোগসন্ধানী লোক মার্কেট ভাঙচুর ও দোকান থেকে লুটপাট করেছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।




Comments