কয়েক দিনের টানা অস্থিরতা ও সহিংসতার পর ইরানে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হচ্ছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের মাত্রা কমেছে, বিপরীতে সরকারপন্থি সমাবেশের সংখ্যা বেড়েছে। তবে আপাত শান্ত পরিবেশের মধ্যেও সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ রয়ে গেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনের তুলনায় বর্তমানে ইরানে সহিংসতা অনেকটাই কম। বৃহস্পতিবার রাতের পর থেকে যে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছিল, তা এখন ক্রমান্বয়ে প্রশমিত হচ্ছে। এর আগে সোমবার সরকারের পক্ষে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে লাখো মানুষ অংশ নেয়। দেশটির নেতৃত্ব এটিকে নিরাপত্তা জোরদারের ‘সবুজ সংকেত’ হিসেবে দেখছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে অস্ত্রধারী কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তিকে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালাতে দেখা গেছে। সরকার এসব গোষ্ঠীকে ‘দাঙ্গাবাজ’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি জানান, গত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় তিনি কোনো বড় বিক্ষোভ বা দাঙ্গা দেখেননি। তাঁর মতে, নিরাপত্তাজনিত কারণেই ইন্টারনেট বিধিনিষেধ জারি রাখা হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ভয় কাজ করছে। অনেকের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আবারও খারাপের দিকে যেতে পারে। বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, সহিংসতায় নিহত শতাধিক মানুষের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিকও রয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটি প্রস্তুত। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, গত বছরের তুলনায় ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments