Image description

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর কয়েক মাসের জন্য স্থগিত করতে যাচ্ছে ভারত। মূলত বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর ‘অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা’ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে তদন্ত শুরু করায় দুই দেশের মধ্যে এই টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার (১৩ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মাসেই দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরের কথা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই সময়সূচি আরও কয়েক মাস পিছিয়ে যেতে পারে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা এখনও আশা করছেন, ভারত তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।

নয়াদিল্লির পরিকল্পনা ছিল চলতি মাসে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি সই করে পরে তা পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া। এই চুক্তির ওপর ভিত্তি করে গত মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক কমাতে সম্মত হন। বিনিময়ে ভারতও রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি কমানো, মার্কিন পণ্যে শুল্ক হ্রাস এবং প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র দ্বিপাক্ষিক আলোচনা স্থগিতের খবর অস্বীকার করে জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই পারস্পরিক লাভজনক চুক্তির বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে চুক্তিটি ঠিক কবে স্বাক্ষরিত হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে এখনও কাজ করে যাচ্ছে।

ভারতীয় সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত মাসের শেষ দিকে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত কিছু শুল্ক বাতিলের পর থেকেই আলোচনার গতি কিছুটা কমে যায়। এরপর ইরান সংকট নিয়ে ওয়াশিংটন ব্যস্ত হয়ে পড়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব হারায়। এছাড়া, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ না করে শুধু গতি কমিয়েছিল। বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে উল্টো মার্কিন কর্মকর্তারাই এখন নয়াদিল্লিকে রাশিয়ার তেল কেনা বাড়াতে উৎসাহিত করছেন বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।

চুক্তিটি ঝুলে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘ধারা ৩০১’-এর আওতায় শুরু হওয়া নতুন একটি তদন্তকে। ভারতসহ ১৬টি দেশের উৎপাদন খাতের অতিরিক্ত সক্ষমতা নিয়ে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। ভারতের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা চুক্তি সই করতে কোনো তাড়াহুড়া করছি না।’ তাঁর মতে, এই তদন্ত আসলে ভারতকে দ্রুত চুক্তিতে বাধ্য করার একটি কৌশল বা চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার।

নয়াদিল্লি এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নীতি গ্রহণ করেছে। ভারত সরকারের দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল আমদানির বিষয়ে যে শর্তের কথা বলেছিলেন, ভারত তা পুরোপুরি মেনে নেয়নি; বরং তারা আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করার কথা বলেছিল। সুযোগ পেলে ভারত মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে। প্রয়োজনে তারা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) দ্বারস্থ হওয়ার বিকল্প পথও খোলা রাখছে।

এদিকে, নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর সতর্ক করে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে শুল্ক আরোপের আরও অনেক উপায় আছে। শুক্রবার এক সম্মেলনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করে যেসব দেশ চুক্তির অংশীদার, তারা যেন তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও চুক্তির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর