Image description

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়ার ফলে মার্কিন অর্থনীতি চরম মন্দার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যেই ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউটের পরিচালক স্যাম ওরি সতর্ক করে বলেছেন, তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় ব্যারেলপ্রতি ১৪০ ডলারের আশেপাশে থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঐতিহাসিকভাবে তেলের উচ্চমূল্য সবসময়ই বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য মন্দার ঝুঁকি তৈরি করে।

এদিকে জ্বালানির এই অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মার্কিন সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। জ্বালানি বিশ্লেষক প্যাট্রিক ডিহান জানান, দেশটিতে পেট্রোলের গড় দাম ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় গ্যালনপ্রতি প্রায় ৬৫ সেন্ট বেড়ে ৩ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত শুধু জ্বালানি খাতের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকবে না। জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় নিত্যপণ্যের পরিবহন খরচ এবং শিল্প উৎপাদনের ব্যয়ও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে একদিকে যেমন মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে গিয়ে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা স্থবিরতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এছাড়া যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। এতে দেশটির দীর্ঘমেয়াদি বাজেট ঘাটতি ও ঋণের বোঝা আরও ভারী হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো বিশ্বের নজর এখন হরমুজ প্রণালির দিকে; কত দ্রুত এই রুটটি পুনরায় সচল হয় তার ওপরই নির্ভর করছে আগামীর অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি।

মানবকণ্ঠ/ডিআর