Image description

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যেসব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর হামলা চালানো হবে, সেগুলোকে ইরানের প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে “বৈধ লক্ষ্যবস্তু” হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

শনিবার (৭ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি এই বার্তা দেন।   

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইরান সবসময়ই প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক, পারস্পরিক সম্মান এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে।’

তবে তিনি বলেন, এই অবস্থান ইরানের ‘স্বাভাবিক আত্মরক্ষার অধিকার’কে খর্ব করে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ‘জায়নিস্ট শাসন’ ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান আত্মরক্ষার অধিকার রাখে।

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশের প্রতিরক্ষায় শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকব এবং প্রতিরোধ চালিয়ে যাব।’

তিনি আরও বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষামূলক অভিযান কেবল ‘সেসব লক্ষ্যবস্তু ও স্থাপনার বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে, যেগুলো ইরানি জাতির বিরুদ্ধে আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের উৎস।’ তার ভাষায়, এসবই ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’।

ইরানের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরান কোনো বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী দেশকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। বরং ‘মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, স্থাপনা ও অবকাঠামো’কেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

এর আগে শনিবারই তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড থেকে যদি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো না হয়, তাহলে ইরানও তাদের ওপর আক্রমণ থেকে বিরত থাকবে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি এ তথ্য জানিয়েছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে দুঃখ প্রকাশও করেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের অন্য কোনো দেশে আক্রমণ বা আগ্রাসন চালানোর কোনো ইচ্ছা নেই।’

উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা রয়েছে। কিছু হামলায় বন্দর ও আবাসিক ভবনসহ বেসামরিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে শত শত মানুষের মৃত্যুর প্রতিক্রিয়াতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও রয়েছেন।