লেবানন সরকারকে নতুন করে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, লেবানন সরকার যদি হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশটির জাতীয় অবকাঠামোর ওপর হামলার মাত্রা আরও জোরদার করা হবে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়ার পর কাৎজ এই হুমকি দেন। তিনি এই হামলাকে ‘মাত্র তো শুরু’ বলে অভিহিত করেছেন।
ইসরায়েলের ওয়াইনেট নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কাৎজ বলেন, লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হিজবুল্লাহর লাগাম টেনে ধরতে না পারলে লেবাননকে তাদের জাতীয় অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননের যারারিয়াহ এলাকায় লিতানি নদীর ওপর অবস্থিত একটি সেতুতে বিমান ও ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। বর্তমান সংঘাত শুরুর পর এই প্রথম প্রকাশ্যে কোনো বেসামরিক বা জাতীয় অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ঘোষণা দিল ইসরায়েল।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, ওই সেতুটি উত্তর ও দক্ষিণ লেবাননের মধ্যে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের চলাচলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এছাড়া সেতুর আশেপাশে হিজবুল্লাহর রকেট লঞ্চার ছিল এবং সেখান থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামলা চালানো হচ্ছিল বলেও দাবি করা হয়। তবে এই দাবির স্বপক্ষে ইসরাইল কোনো অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, তাদের নাগরিকদের ওপর হিজবুল্লাহর রকেট হামলার হুমকি নির্মূল করতেই এই সেতুটি ধ্বংস করা প্রয়োজনীয় ছিল। এদিকে, বেসামরিক অবকাঠামোয় এ ধরনের সরাসরি হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments