Image description

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠী যুদ্ধবিরতির জন্য কাকুতি-মিনতি করছে; সেখানকার নেতৃত্বের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলছে।

শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইরানে এখনও “আরও অনেক কিছু করার আছে”। তিনি এমন সময় একথা বলছিলেন যখন সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে মার্কিন ও ইরানি আলোচকরা ইসলামাবাদে মিলিত হয়েছিলেন।

নেতানিয়াহু বলেন, অভিযান এখনো শেষ হয়নি। ইরান আমাদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিল। এখন তারা টিকে থাকার জন্য লড়ছে। আমাদের এখনো আরও অনেক কিছু করার আছে। ইরানে ভয়ের দেয়াল ভেঙে আমরাই প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। আমার সেই উত্তেজনা, সেই গর্বের কথা মনে আছে।

তিনি বলেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠী যুদ্ধবিরতির জন্য কাকুতি-মিনতি করছে ; সেখানকার নেতৃত্বের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সংঘাত রয়েছে। তাদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার আছে যা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে ১৯৭৯ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে দুর্বল করে আনা। আমরা যেসব লক্ষ্যবস্তু নির্মূল করেছি তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো – ইস্পাত শিল্প, গ্যাস উৎপাদন, জ্বালানি, সেতু এবং রেলপথ।

তিনি আরও বলেন, অপারেশন রাইজিং লায়ন ও রোয়ারিং লায়ন না থাকলে ইরানের কাছে এতদিনে পারমাণবিক বোমা থাকতো; আমরা তা প্রতিরোধ করেছি। এইবারের অপারেশন রাইজিং লায়নের আগে আমার কাছে নির্ভুল রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য এসেছিল; আমরা ১২ জন পারমাণবিক বিজ্ঞানীকে নির্মূল করেছি এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছি।

এরপর, খামেনেইয়ের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পুনরায় চালু করার উদ্যোগ এবং গোপনে পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য আমার কাছে পৌঁছায়। ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’-এ আমরা আটজন পারমাণবিক বিজ্ঞানীকে নির্মূল করেছি এবং বর্তমানে ইরানের কোনো সক্রিয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নেই।

নেতানিয়াহু দাবি করেন যে, ইসরায়েল দ্রুত এই অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য অনেক দেশ আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে; শক্তি অন্যদের কাছে নিয়ে আসে। ভূখণ্ডে ছোট হলেও অদম্য মনোবল ও সংকল্পে ইসরায়েল সবচেয়ে শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তি এবং এমনকি একটি বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

নেতানিয়াহু বলেন, আমাদের পাইলট ও বিমানকর্মীদের কল্যাণে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আমাদের এখনও আরও অনেক কিছু করার আছে। আমাদের শক্তির ফলস্বরূপ, গত মাসে লেবানন সরাসরি আলোচনার জন্য আমার কাছে এসেছিল, যা আগে কখনও ঘটেনি, এবং আমি হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ ও একটি প্রকৃত শান্তি চুক্তির শর্তে তাতে অনুমোদন দিয়েছি।