ইরান ও লেবাননের সাথে চলমান সংঘাতের জেরে ইসরায়েলের অর্থনীতিতে ভয়াবহ ধস নেমেছে। বিশেষ করে দেশটির শ্রমবাজারে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন সংকট।গত মার্চ মাসে ইসরায়েলে বেকারত্বের হার লাফিয়ে ১৬.২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা করোনাভাইরাস মহামারির পরবর্তী সময়ে সর্বোচ্চ।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটিতে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অথবা কার্যত কাজের বাইরে রয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পরবর্তী সময়ে এই হার ছিল ১০ শতাংশের কাছাকাছি। এমনকি ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়েও শ্রমবাজারের পরিস্থিতি এতটা শোচনীয় ছিল না।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এবারের সংকট কেবল প্রথাগত বেকারত্ব নয়। যুদ্ধের কারণে অসংখ্য মানুষকে অনিচ্ছাকৃত ছুটিতে (Unpaid Leave) পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অচল হয়ে পড়ায় কর্মসংস্থানে এই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যানের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে অর্থনৈতিক কারণে কাজের বাইরে থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল মাত্র ২০ হাজার। কিন্তু যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে মার্চে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখে। এই উল্লম্ফন প্রমাণ করে যে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের স্থবিরতা জেঁকে বসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের অর্থনীতি এখন বহুমুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। একদিকে আকাশচুম্বী নিরাপত্তা ও যুদ্ধ ব্যয়, অন্যদিকে উৎপাদন ও সেবা খাতের বিপর্যয় দেশটিকে খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের কৃষি ও শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই শ্রমবাজার সংকট দেশটির অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতাকে উসকে দিতে পারে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে, যার ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েল বর্তমানে একটি ‘নিরাপত্তা-নির্ভর জরুরি ব্যবস্থাপনা’র মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে স্বাভাবিক উৎপাদনশীল কাঠামোয় ফিরে আসা সময়ের ব্যাপার। আর এই দীর্ঘসূত্রতার সবচেয়ে বড় মাসুল দিতে হচ্ছে দেশটির সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে।
সূত্র: আল-জাজিরা




Comments