Image description

শুক্রবার (১ মে) ভোররাত থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক ও অলিগলি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এতে ছুটির দিনের সকালে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর ৫টার পর থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা রাজধানীজুড়ে অঝোরে বৃষ্টি হয়। এই অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই গ্রিনরোড, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর সংলগ্ন সড়ক, জিগাতলা, মিরপুর ১০, কাজীপাড়া, মালিবাগ রেলগেট, মৌচাক, মগবাজার এবং হাতিরঝিলের মধুবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু সমান পানি জমে যায়। সকাল ৮টা পার হয়ে গেলেও অনেক এলাকায় পানি নামতে দেখা যায়নি।

শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় সড়কে যানবাহনের চাপ কম ছিল, ফলে বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি না হলেও ব্যক্তিভেদে ভোগান্তি ছিল চরমে। জিগাতলা থেকে কারওয়ান বাজারে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক পথচারী জানান, “জিগাতলায় রিকশার পাদানি পর্যন্ত পানি উঠে গিয়েছিল। পা তুলে বসেও শেষ রক্ষা হয়নি, পাশ দিয়ে অন্য যানবাহন যাওয়ার সময় ছিটকে আসা পানিতে ভিজে যেতে হয়েছে।” একই চিত্র দেখা গেছে ধানমন্ডি ও মিরপুরের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কেও।

গত রবিবার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা তীব্র তাপপ্রবাহ প্রশমিত হয়েছে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিনগুলোর তুলনায় অনেকটাই কম। এই বৃষ্টি জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও জলাবদ্ধতা সেই স্বস্তিতে কিছুটা ভাটা ফেলেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের ছয়টি বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বিভাগগুলো হলো—ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে (৬০ মিলিমিটার) এবং এর আগের দিন পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ছিল ১২১ মিলিমিটার।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, লঘুচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে, যা তাপমাত্রাকে সহনীয় পর্যায়ে রাখবে। তবে রাজধানীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এই জলাবদ্ধতা নগরবাসীর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।