Image description

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের প্রকৃত চিত্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে গোপন করা এবং সামরিক বিজয় নিয়ে ‘বিপজ্জনকভাবে অতিরঞ্জিত’ বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগে মার্কিন সিনেটে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। 

বৃহস্পতিবার ক্যাপিটল হিলে আয়োজিত এক শুনানিতে জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্যরা হেগসেথকে সরাসরি অভিযুক্ত করে বলেন, তাঁর ভুল কৌশলের কারণে মার্কিন নাগরিকরা এমন এক যুদ্ধের বোঝা বইছে যা তারা চায়নি।

সিনেটের সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যাক রিড শুনানির শুরুতেই হেগসেথকে আক্রমণ করে বলেন, “আমেরিকান পরিবারগুলো আজ জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং যুদ্ধের যে মাসুল দিচ্ছে, তা তারা সমর্থন করে না। আপনি মাসখানেক আগেই বিজয় ঘোষণা করেছেন, অথচ বাস্তবতা হলো মার্কিন জনগণ এই যুদ্ধ থেকে কিছুই পায়নি।”

পেন্টাগনের রেকর্ড ১.৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেট প্রস্তাবনা নিয়ে আয়োজিত এই শুনানি দ্রুতই ইরান যুদ্ধ নিয়ে তর্কে রূপ নেয়। আট সপ্তাহের লড়াইয়ের পর বর্তমানে যুদ্ধটি এক ধরণের অচলাবস্থায় রয়েছে, যার ফলে তেহরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দিয়েছে।

শুনানি চলাকালীন বিক্ষোভকারীরা হেগসেথকে “যুদ্ধাপরাধী” ও “ঘৃণ্য” বলে স্লোগান দিলে কিছুক্ষণের জন্য কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

সিনেটর রিড অভিযোগ করেন, যখন মার্কিন সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত বা আহত হচ্ছে, তখন হেগসেথ তাঁর ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত। তিনি পেন্টাগনের চ্যাপলিন বাহিনী পুনর্গঠন, ফ্লু ভ্যাকসিনের আবশ্যকতা বাতিল এবং গায়ক কিড রককে অ্যাপাচি হেলিকপ্টারে চড়িয়ে সেনা ঘাঁটিতে ‘আনন্দ ভ্রমণে’ নেওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে সমালোচনা করেন। এছাড়া জাতি বা লিঙ্গের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের বরখাস্ত করা নিয়ে হেগসেথের সিদ্ধান্তের কঠোর নিন্দা করা হয়।

সব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে পিট হেগসেথ তাঁর সমালোচকদের “বেপরোয়া, অকর্মণ্য এবং পরাজয়বাদী” বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হলো কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকানদের হতাশাবাদী কথাবার্তা। তারা গত ৪৭ বছরের হুমকি মোকাবেলায় আমাদের ঐতিহাসিক সাফল্যকে খাটো করে দেখছে।”

হেগসেথ দাবি করেন, ইরানকে সামরিকভাবে পরাজিত করার লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এবং আমেরিকান জনগণের পূর্ণ সমর্থন সরকারের সঙ্গে আছে।

নিউইয়র্কের সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড হেগসেথকে স্মরণ করিয়ে দেন যে এটি একটি ‘অনুমোদনহীন যুদ্ধ’ এবং মার্কিন জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এর বিপক্ষে। 

কানেকটিকাটের সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেন, “জনগণের সমর্থন ছাড়া আমেরিকা কোনো যুদ্ধে সফল হয় না। আপনি এখন যাকে সাফল্য বলছেন, জয়টা যদি এমনই হয়, তবে পরাজয় কেমন হবে তা ভাবতেও আমার ভয় লাগছে।”

শুনানির শেষ পর্যায়ে হেগসেথ কিছুটা নরম সুরে স্বীকার করেন যে, ইরান অভিযানের প্রতি জনসমর্থন হয়তো তাঁর দাবির মতো ততটা দৃঢ় নয়। তবে এর জন্য তিনি ডেমোক্র্যাট দল এবং গণমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারণাকেই দায়ী করেন।