Image description

ছবি: ফক্স নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। সোমবার মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযান পুনরায় শুরু করার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। হরমুজ প্রণালীতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরুর পরপরই ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। 

মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, চূড়ান্ত যুদ্ধের সিদ্ধান্ত এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তেহরানের নতুন নেতৃত্বের হাতে।

ফক্স নিউজকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, আজ ইরান মার্কিন জাহাজে গুলি চালানোর এবং ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও দ্রুতগামী নৌকা দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্যবস্তু করার পর, ২৪ ঘণ্টা আগের তুলনায় আমরা এখন বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযান পুনরায় শুরু করার আরও কাছাকাছি চলে এসেছি।  

মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানান, উপসাগরে তাদের বাহিনী এখন ‘পুনরায় সশস্ত্র এবং সুসজ্জিত’ অবস্থায় রয়েছে। প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা সংবাদদাতা জেনিফার গ্রিফিনকে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন কমান্ডারদের নিজেদের এবং বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষায় যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত সোমবার জানিয়েছে যে, এক ডজনেরও বেশি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন এবং একটি ইরানি ড্রোন হামলায় একটি তেল স্থাপনায় আগুন লেগে তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন।

ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে দুটি পণ্যবাহী জাহাজে আগুন লাগার খবর দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা বেসামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানো ছয়টি ইরানি নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র এবার আর ইরানের প্রথম গুলির অপেক্ষায় থাকবে না। কর্মকর্তারা সাফ জানিয়েছেন, যদি দেখা যায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক সরাচ্ছে বা বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি তৈরি করছে, তবে মার্কিন বাহিনী ‘পূর্বেই প্রতিরোধমূলক’ (Pre-emptive) হামলা চালিয়ে সেই হুমকি নির্মূল করবে।

হরমুজ প্রণালীতে সপ্তাহে ধরে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার করে দিতে সোমবার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ চালু করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মার্কিন কৌশলবিদদের মতে, প্রতিটি জাহাজকে আলাদাভাবে পাহারা (Escort) দেওয়া অকার্যকর। এর বদলে আকাশ ও নৌবাহিনীর শক্তির সমন্বয়ে একটি ‘স্তরযুক্ত প্রতিরক্ষা বলয়’ বা ‘ডিফেন্সিভ আমব্রেলা’ তৈরি করা হয়েছে, যা পুরো অঞ্চলজুড়ে জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দেবে।

যদিও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বোমাবর্ষণ বা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর কোনো চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হয়নি, তবে পরিস্থিতি ২৪ ঘণ্টা আগের তুলনায় অনেক বেশি উদ্বেগজনক। 

হোয়াইট হাউস সূত্র বলছে, সামরিক বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতিতে জবাব দিতে প্রস্তুত। এখন দেখার বিষয়, তেহরান তাদের আক্রমণাত্মক অবস্থান থেকে সরে আসে কি না, নতুবা মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

__ফক্স নিউজ