Image description

ছবি: ফক্স নিউজ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফর শুক্রবার একটি চূড়ান্ত বৈঠকের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। জাঁকজমকপূর্ণ এই সফরে একদিকে যেমন কোটি কোটি ডলারের বাণিজ্যিক চুক্তির আভাস পাওয়া গেছে, অন্যদিকে তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এসেছে নজিরবিহীন সতর্কবার্তা।

সফরের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল তাইওয়ান। শি জিনপিং স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যুটি সঠিকভাবে সামলানো না গেলে দুই দেশের সম্পর্ক মারাত্মক অবনতির দিকে যেতে পারে। চীনের উপকূল থেকে মাত্র ৫০ মাইল দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটিকে বেইজিং নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে। 

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তাইওয়ান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তারা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এই সফরের বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে চীনের পক্ষ থেকে ২০০টি মার্কিন বোয়িং জেট কেনার প্রতিশ্রুতি। যদিও বাজারের প্রত্যাশা ছিল ৫০০টির মতো, ফলে এই ঘোষণার পর বোয়িং-এর শেয়ার বাজারে ৪ শতাংশ দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। 

এছাড়া চীন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য, গরুর মাংস এবং সয়াবিন কেনার বিষয়েও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছেছে। এনভিডিয়া (Nvidia) সেমিকন্ডাক্টর চিপ রপ্তানি নিয়ে আলোচনা হলেও উন্নত এইচ২০০ চিপ পাঠানোর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

বৈঠকে ইরানের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, শি জিনপিং হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করতে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। উল্লেখ্য, চীন ইরানের তেলের অন্যতম বৃহত্তম ক্রেতা। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন যে, ইরানকে একটি চুক্তিতে রাজি করাতে বেইজিং তাদের প্রভাব খাটাবে।

আলোচনায় হংকংয়ের কারাবন্দি মিডিয়া টাইকুন জিমি লাইয়ের মুক্তির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিষয়টি শি-র কাছে উত্থাপন করেছেন। জিমি লাই বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তা মামলায় ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া আশা করছে।

২০১৭ সালের পর এটিই কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প এই সফরের মাধ্যমে নিজের জনসমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। 

শুক্রবার ভোরে ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, "আশা করি চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী ও উন্নত হবে।"

সফরের শেষ পর্যায়ে দুই নেতা বেইজিংয়ের প্রাচীরঘেরা ঝংনানহাই কমপ্লেক্সে চা-চক্র ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে এক জাঁকজমকপূর্ণ নৈশভোজে শি জিনপিং বলেন, "চীন-মার্কিন সম্পর্ক বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অবশ্যই এটিকে সফল করতে হবে।"

ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে ট্রাম্প এই সফরকে "অসাধারণ" বলে অভিহিত করেছেন। তবে তাইওয়ান ও বাণিজ্যের মতো জটিল বিষয়গুলো ভবিষ্যতে এই দুই পরাশক্তির সম্পর্ককে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।