কাছাকাছি সময়ে অনুভূত হওয়া দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত প্রায় ১ হাজার। বৃহস্পতিবার দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ হালনাগাদকৃত এই তথ্য জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের পাশের লা গুয়াইরা অঞ্চল। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সেখানে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তিন শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। রদ্রিগেজের ভাষায় এই অঞ্চলটি বর্তমানে একটি বিধ্বস্ত এলাকা।
বৃহস্পতিবার দেশটির বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসস্তূপের ভেতর আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে দেখা যায়। দেশজুড়ে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। উদ্ধারকাজ ও সহায়তা দিতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ইরান, ফ্রান্স, স্পেন, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।
বাহরাইন সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেছেন, তাঁর দেশ তাৎক্ষণিক বৃহৎ পরিসরে সহায়তামূলক সাড়া দিচ্ছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, উপকূলীয় শহর মোরন থেকে ২১ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর ঠিক এক মিনিটের মধ্যে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এ ধরনের ঘটনাকে জোড়া ভূমিকম্প বা ‘ডাবলেট’ও বলা হয়, যা বিরল।
কারাকাসের ৩৮ বছর বয়সী প্রকৌশলী হেসুস আলেহান্দ্রো পিনা জানান, ভূমিকম্প যখন আঘাত হানে তখন তিনি একটি সাততলা ভবনের ওপরের তলায় ছিলেন। আলজাজিরাকে তিনি বলেছেন, ‘কাঁচের জিনিসপত্র ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছিল, দেয়ালের ছবিগুলো খসে পড়ছিল। এমনকি ভবনের পিলার আর বিমগুলো থেকেও বিকট শব্দ আসছিল।’
একজন প্রকৌশলী হওয়ায় পিনা সহজেই বুঝতে পারেন তীব্র ঝাঁকুনিতে ভবনটির ভেতরে আসলে কী ঘটছে। তিনি বলেন, ‘পিলার ও বিমের এই নড়াচড়া মূলত ভূমিকম্পের শক্তিকে শুষে নিতে সাহায্য করে। কিন্তু এই কম্পন যদি অতিরিক্ত সময় ধরে চলে, তবে তা সহ্য ক্ষমতার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যায়। আর ঠিক তখনই ভবন ধসে পড়ে।’




Comments