ভারতের উত্তরপ্রদেশের মিরাটে ২০ লাখ রুপির জীবনবিমার অর্থ হাতিয়ে নিতে প্রেমিকের সহায়তায় স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) হস্তিনাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত অতুল পাওয়ার (৩২)কে বিষধর সাপের কামড়ে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন তার স্ত্রী দামিনী পাওয়ার (৩০) ও প্রেমিক তুষার কুমার।
তদন্তে জানা যায়, সাত বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন অতুল ও দামিনী। তিন মাস আগে অতুল একটি প্লে-স্কুল চালু করেন এবং সেখানে ভ্যানচালক হিসেবে তুষার কুমারকে নিয়োগ দেন। পরে তুষারের সঙ্গে দামিনীর পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ।
পুলিশের দাবি, অতুলের নামে থাকা ২০ লাখ রুপির জীবনবিমার অর্থ পাওয়ার উদ্দেশ্যেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হত্যার রাতে অতুলকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর তার কম্বলের ভেতরে একটি বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়। সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হলে ঘটনাটিকে স্বাভাবিক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়।
পরদিন সকালে দামিনী প্রতিবেশীদের ডেকে জানান, তার স্বামী অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন এবং বিছানায় একটি সাপ রয়েছে। পরে অতুলকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে দামিনীর মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডে তুষারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। তুষারের ফোনে একটি বাক্সে বন্দি সাপের ছবিও উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে দামিনী ও তুষার হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে সাপ সরবরাহের অভিযোগে সনু কুমার ও উদয় কুমার নামে আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চারজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) খুন ও বিষ বা চেতনানাশক প্রয়োগসংক্রান্ত ধারায় মামলা করা হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া




Comments