Image description

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইউসুফের বিরুদ্ধে ফলাফল জালিয়াতি করে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মহিবুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এই তথ্য চাওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ওই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম রাব্বানীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মো. ইউসুফের বিরুদ্ধে গঠিত তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন এবং এ বিষয়ে সিন্ডিকেটের গৃহীত সিদ্ধান্ত দ্রুত কমিশনকে জানাতে হবে।

অভিযোগ ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, মো. ইউসুফ নিয়োগের সময় যে এইচএসসি সনদ জমা দিয়েছিলেন, তাতে জিপিএ ৩.০১ উল্লেখ ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড জানায়, তাদের রেকর্ড অনুযায়ী ইউসুফের প্রকৃত জিপিএ ছিল ২.৯০। অথচ ২০১১ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী, মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের যেকোনো একটিতে ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ বা ‘এ’ গ্রেড থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। ইউসুফ এই শর্ত পূরণ না করেই প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নিয়োগ পান।

অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তিতে ‘একটি’ স্থায়ী পদের কথা উল্লেখ থাকলেও হাতে লিখে তা কেটে ‘তিনটি’ করা হয়। এছাড়া নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্ল্যানিং কমিটিও গঠন করা হয়নি। তৎকালীন সিন্ডিকেট নিয়োগ বাতিল করলেও আইনি ফাঁকফোকর ও হাইকোর্টে রিট করে পদটি বাগিয়ে নেন ইউসুফ। তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো আপিল না করায় তার নিয়োগ কার্যকর হয়।

সহযোগী অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বোর্ড চ্যালেঞ্জ ও প্রাথমিক তদন্তে জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় গত ২৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৮তম সিন্ডিকেট সভায় একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বর্তমানে ইউজিসি এই স্পর্শকাতর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত অবস্থান ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চেয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর