আশিয়ান মেডিকেল কলেজের অংশগ্রহণে কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন ফেয়ার অনুষ্ঠিত
আশিয়ান মেডিকেল কলেজের অংশগ্রহণে কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন ফেয়ার-২০২৬। বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষাকে প্রচারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত এই এডুকেশন ফেয়ার অংশ নেন চিকিৎসা শিক্ষায় আগ্রহী নেপালের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) সহযোগিতায় কাঠমান্ডুর দ্য এভারেস্ট হোটেল এই এডুকেশন ফেয়ার আয়োজিত হয়।
এডুকেশন ফেয়ারে আশিয়ান মেডিকেল কলেজসহ বাংলাদেশের ২০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অংশগ্রহণ করে এবং আগ্রহী নেপালের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের জন্য বাংলাদেশে মেডিকেল শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পর্কে অবগত করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন আশিয়ান গ্রুপের পরিচালক জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া।
এসময় তিনি বলেন, এই মেডিকেল এডুকেশন ফেয়ার কেবল একটি মেলা নয়, এটি ভবিষ্যৎ জীবন রক্ষাকারীদের স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ। চিকিৎসা সেবা এমন এক পেশা যেখানে মেধা এবং মানবিকতার মিলন ঘটে। এটি শুধু একটি ডিগ্রি নয়, এটি একটি জীবনব্যাপী সাধনা। বর্তমানে দেশে ও বিদেশে অসংখ্য মেডিকেল কলেজ রয়েছে। তবে সঠিক কলেজ, কারিকুলাম এবং খরচ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, মেডিকেল পড়াশোনা দীর্ঘ এবং পরিশ্রমের। এখানে মেধার চেয়েও বেশি প্রয়োজন লেগে থাকার মানসিকতা। একজন ভালো ডাক্তার হওয়ার আগে একজন ভালো মানুষ হওয়া প্রয়োজন। রোগীর প্রতি সহমর্মিতা যেন প্রথম থেকেই বজায় রাখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শুধু বইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান। শিক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের ভাষা ও সামাজিক পরিবেশের সাদৃশ্যের কারণে নেপালি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার সময় অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বাংলাদেশের কোর্স কারিকুলাম ও পরীক্ষা পদ্ধতি কানাডিয়ান সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় অধিক উন্নত।
চিকিৎসা শিক্ষায় বাংলাদেশ এখন একটি নির্ভরযোগ্য গন্তব্যে পরিণত হয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, উন্নতমানের শিক্ষা, বিস্তৃত ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ, সাশ্রয়ী টিউশন ফি, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রির কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের রোগ পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের সুযোগ পায়, যা তাদের উন্নত ক্লিনিক্যাল জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে।
বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেপালি চিকিৎসক বাংলাদেশ থেকে মেডিক্যাল শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে নেপালের স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের স্নাতকোত্তর (পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট) চিকিৎসকদের মান সর্বোচ্চ এবং তা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ও সমাদৃত। এছাড়া দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা জোরদার ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে বিপিএমসিএ-এর মহাসচিব বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থার একাডেমিক মান, পাঠ্যক্রমের কাঠামো, ক্লিনিক্যাল এক্সপোজার এবং শিক্ষার্থী সহায়তা সেবাসমূহ তুলে ধরে, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সংগঠনের ভূমিকা সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
আশিয়ান গ্রুপের পরিচালকের নেতৃত্বে মেলায় আগত ৫০০'র বেশি নেপালি শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন আশিয়ান মেডিকেল কলেজের প্রতিনিধিরা। মতবিনিময়কালে শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া, যোগ্যতার শর্ত, একাডেমিক প্রোগ্রাম, টিউশন ফি, বৃত্তি, আবাসন সুবিধা এবং বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক জীবনযাপন সম্পর্কে আলোচনাও করেন তারা। এই শিক্ষা মেলা একটি সময়োপযোগী ও তথ্যবহুল উদ্যোগ হিসেবেও প্রশংসা কুড়িয়েছে আগত শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকমহলে।
পরে, নেপালের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয়ের সচিব (স্বাস্থ্য) ড. বিকাশ দেবকোটার এবং নেপাল মেডিকেল কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া নেতৃত্বাধীন আশিয়ান মেডিকেল কলেজের প্রতিনিধিরা।




Comments