Image description

দীর্ঘ ৯৮১ দিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফিরলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র। গতরাতে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাকে অ্যাকশনে দেখা যায়। ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে ম্যাথিউস কুনহার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন এই ফরোয়ার্ড। যদিও এই ম্যাচে তিনি কোনো গোল পাননি, তবে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এখন পূর্ণ ফিট এবং জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে ফর্ম ফিরে পেতে মরিয়া।

ব্রাজিলের পরবর্তী ম্যাচ জাপানের বিপক্ষে, যারা আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেইমারের সবচেয়ে প্রিয় প্রতিপক্ষ। পরিসংখ্যান বলছে, সেলেসাওদের হয়ে নেইমারের ৭৯টি আন্তর্জাতিক গোলের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯টি গোলই এসেছে জাপানের বিপক্ষে। ১০ নম্বর জার্সিধারী এই তারকার ক্যারিয়ারে আর কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিপক্ষে এত বেশি গোল নেই।

জাপানের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৫টি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন নেইমার। এর মধ্যে চারটি প্রীতি ম্যাচ এবং একটি ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপের ম্যাচ। জাপানের জালে নেইমারের গোল উৎসবের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ— ২০১২ সালে ২ গোল, ২০১৩ সালে ১ গোল, ২০১৪ সালে একাই ৪ গোল, ২০১৭ সালে ১ গোল এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে ১ গোল করেছিলেন তিনি।

নেইমারের প্রত্যাবর্তনে আগেভাগেই সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছেন জাপানের অভিজ্ঞ ফুলব্যাক ইউতো নাগাতোমো। এফসি টোকিও’র এই তারকা বলেন, ‘নেইমার একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়। তাকে নিয়ে আমাদের বিশেষ পরিকল্পনা রাখতে হবে। সত্যি বলতে, ব্রাজিলের বিপক্ষে এই ম্যাচটি আমাদের জন্য নতুন এক টুর্নামেন্টের মতো। তাদের বিপক্ষে আমাদের শতভাগ উজার করে দিতে হবে।’

জাপানের পর নেইমারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিকার পেরু (৬ গোল)। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও বলিভিয়ার বিপক্ষে ৫টি করে এবং কলম্বিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও ইকুয়েডরের বিপক্ষে ৪টি করে গোল করেছেন তিনি। আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও চীনের বিপক্ষে ৩টি করে এবং জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালির মতো বড় দলগুলোর বিপক্ষেও ১টি করে গোল রয়েছে এই ব্রাজিলিয়ান তারকার ঝুলিতে।

মাঠের লড়াইয়ে নেইমারের এই প্রত্যাবর্তন এবং তার প্রিয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ফর্ম ফিরে পাওয়ার মিশন ফুটবল বিশ্বে এখন আলোচনার তুঙ্গে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর