বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের কয়েকটি রেফারিং সিদ্ধান্তকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে নিজেদের মতামত দিয়েছেন ফুটবল কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি, রয় কিন ও জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ।
থিয়েরি অঁরি বলেন, মিশরের হতাশা তিনি বুঝতে পারছেন, তবে ষড়যন্ত্রের অভিযোগের সঙ্গে তিনি একমত নন।
তার ভাষায়, ‘সবাই আবেগ নিয়ে কথা বলছে, কিন্তু সবাই একই ঘটনা দেখছে না। আমি রিপ্লে কয়েকবার দেখেছি। মিশরের হতাশার কারণ যেমন বোঝা যায়, তেমনি আর্জেন্টিনাও কেন সিদ্ধান্তকে সঠিক মনে করছে, সেটিও বোঝা যায়। এ কারণেই বিতর্ক এত তীব্র।’
অঁরির মতে, মূল সমস্যা সিদ্ধান্ত সঠিক না ভুল—সেটি নয়; বরং রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা। তিনি বলেন, মিশরের গোল বাতিলের সময় ভিএআর দীর্ঘ সময় ধরে পর্যালোচনা করা হলেও পরে তাদের পেনাল্টির আবেদনে একই ধরনের বিস্তারিত পর্যালোচনা দেখা যায়নি। সমর্থকদের প্রশ্নের মূল কারণ এটিই।
তিনি আরও বলেন, ভিএআরের উদ্দেশ্য প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিখুঁত করা নয়, বরং সব দলের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা এবং মিশরের লড়াকু পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন তিনি।
অন্যদিকে রয় কিন মিশরের কোচের অভিযোগকে গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, ‘ম্যাচ হেরে সমর্থকরা নানা কথা বলতে পারে, কিন্তু জাতীয় দলের কোচের উচিত নিজের দলের ভুল বিশ্লেষণ করা। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও যদি ম্যাচ জিততে না পারেন, তাহলে আগে নিজের দলের দিকেই তাকাতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেসি জিতলেই অনেকে ফুটবলের বদলে ষড়যন্ত্রের গল্প খোঁজেন। পরাজয় মেনে নিয়ে কোথায় ভুল হয়েছে তা বিশ্লেষণ করাই উচিত। রেফারি বা অন্য কোনো বিষয়কে দোষ দিয়ে লাভ নেই।’
একই সুরে কথা বলেছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। তিনি বলেন, ‘মেসির জনপ্রিয়তার কারণে আর্জেন্টিনা সুবিধা পাচ্ছে—এমন অভিযোগ নতুন কিছু নয়। কিন্তু আপনি যদি ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ জিততে না পারেন, তাহলে মার্কেটিং, রেফারি বা টুর্নামেন্টকে দায়ী করার আগে নিজেদের ভুল খুঁজে দেখা উচিত।’
ইব্রাহিমোভিচের মতে, একজন জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব হলো পরাজয়ের দায় স্বীকার করা এবং সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়া। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অজুহাতের প্রতি আমার কোনো সম্মান নেই। আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত লড়ে জিতেছে। হারকে মেনে নিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসাই একটি দলের প্রকৃত মানসিকতার পরিচয়।’




Comments