বাংলাদেশে ভোরের দিকে ৩.০ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার অব সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ০২ মিনিটের দিকে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
এনসিএসের তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ২০ কিলোমিটার গভীরে। এর অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে অক্ষাংশ ২৪.৮৫ ডিগ্রি উত্তর ও দ্রাঘিমাংশ ৯২.০৭ ডিগ্রি পূর্বে, যা বাংলাদেশের ভেতরে অবস্থিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি জানায়, ভূমিকম্পটির স্থায়িত্ব ছিল অল্প সময়ের এবং মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম।
এদিকে আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পবিষয়ক সংস্থা ভলক্যানো ডিসকাভারিও জানায়, ভোরে বাংলাদেশে হালকা মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২ মিনিটে সিলেট শহর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দূরে এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পটির গভীরতা প্রায় ২০ কিলোমিটার হওয়ায় এর প্রভাব সীমিত ছিল। এখন পর্যন্ত কোথাও কম্পনে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি হালকা হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন আতঙ্ক সৃষ্টি হয়নি।
ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশ একটি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটি ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা—এই তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করছে। এর আশপাশে বগুড়া ফল্ট, ত্রিপুরা ফল্ট, ডাউকি ফল্ট, শিলং মালভূমি ও আসাম ফল্টসহ একাধিক সক্রিয় চ্যুতি রেখা রয়েছে। এসব কারণে বাংলাদেশকে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের জৈন্তাপুর অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি জনবহুল রাজধানী ঢাকাকেও বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ শহরের তালিকায় রাখা হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments