দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নিয়মিত ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে রাস্তায় চলাচল করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে থেকে প্রটোকল-কড়াকড়ি শিথিল করে রাস্তায় সাধারণ নাগরিকের মতো চলাচল করছেন তিনি। ফলে সরকারপ্রধান রাস্তায় বের হলেও তৈরি হচ্ছে না অতিরিক্ত যানজট। নষ্ট হচ্ছে না মানুষের কর্মঘণ্টা। অপচয় হচ্ছে না জ্বালানি। ভিভিআইপি প্রটোকলের বাইরে এসে এমন সাদামাটা জীবনযাপনে ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছেন নয়া সরকারপ্রধান তারেক রহমান।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো অফিস করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গুলশান থেকে সচিবালয়ে যাওয়ার পথে চারটি ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে গন্তব্যে পৌঁছান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে জানান, সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত গাড়ি গুলশানের বাসভবন ত্যাগ করে। পথে চারটি সিগন্যালে লাল বাতি জ্বলে উঠলে গাড়িটি থামে এবং সকাল সোয়া ৯টায় তিনি সচিবালয়ে পৌঁছান। ট্রাফিক সিগন্যালে যখন গাড়ি দাঁড়ায় তখন পথচারীরা প্রধানমন্ত্রীকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। কেউ কেউ গাড়ির কাছে এসে তাকে শুভেচ্ছা জানান। অনেকে মোবাইল ফোনে সেলফিও তোলেন।
সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তারেক রহমান সড়কে চলাচলে কোনো ধরনের ভিআইপি প্রটোকল নিচ্ছেন না। রাস্তার নিয়মিত ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবহার করে চলাচল করছেন তিনি। ট্রাফিক সিগন্যালে সাধারণ মানুষের মতোই দাঁড়িয়ে থাকছে তাকে বহনকারী গাড়ি। ফলে তার চলাচল ঘিরে রাজধানীর সড়কে কোনো ধরনের যানজট, সময় অপচয় ও জনভোগান্তি দেখা যায়নি।
অথচ বিগত দিনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের চলাচলের জন্য সড়ক ফাঁকা রাখতেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সরকারের নির্দেশনায় এসব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য আগাম ‘ক্লিয়ারেন্স’ নিয়ে রাস্তা বন্ধ রাখতেন তারা। লম্বা সময় রাস্তা বন্ধ রাখায় সৃষ্টি হতো দীর্ঘ যানজট। ভোগান্তিতে পড়তেন সড়কে চলাচল করা সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ভিভিআইপি চলাচলের সময় শুধু সড়কের ট্রাফিক সিগন্যাল নয়-ফুটপাত, ফুটওভার ব্রিজ, গুরুত্বপূর্ণ মোড়সহ আশপাশে মানুষ চলাচলও বন্ধ রাখতেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে দিতেন বিশেষ নিরাপত্তা।
ট্রাফিকসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় আগাম ‘ক্লিয়ারেন্স’ দিয়ে কয়েক কিলোমিটার সড়ক ফাঁকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে না তাদের। ফলে প্রধানমন্ত্রীর মুভমেন্টেও নির্ধারিত নিয়মে ট্রাফিক সিগন্যাল কার্যকর রাখছেন তারা। তবে নির্দেশনা পেলে বিগত সময়ের মতো রাস্তা ফাঁকা রাখবেন।




Comments