ডিপোতে প্রচুর তেল অথচ বাইরে ব্যাপক সংকট। নারায়ণগঞ্জের মেঘনা অয়েল ডিপোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের ট্রাক ও ট্যাঙ্কারকে। কিন্তু ডিপোর কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন নেতাদের যোগসাজশে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বেআইনিভাবে। ডিপোর ম্যানেজার বললেন, হেড অফিসের তালিকা অনুযায়ী তেল দিতে হয়। আর কেউ যাতে প্রশ্ন তুলতে না পারে, সে জন্য চলে শ্রমিক ইউনিয়নের দৌরাত্ম্য।
একজন লঞ্চকর্মী বলেন, ‘সদরঘাটের যাত্রীবাহী নৌযানের জন্য কোনো তেলই অ্যালাউ (অনুমতি) করে নাই। এটার জন্য নাকি আলোচনা হবে, তারপর জানাবে।’
ডিপোর ভেতরে দেখা যায়, অপেক্ষমাণ রয়েছে শত শত ট্রাক ও ট্যাঙ্কার। অথচ তেল দেওয়া হচ্ছে ভ্যানে বাঁধা ব্যারেলে। অনিরাপদ তেল সরবরাহের ভিডিও ধারণ করতে গেলে বাধে বিপত্তি। বাধা দেন শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েকজন নেতা।
বাকবিতণ্ডা বাড়লে এগিয়ে আসেন ডিপো ম্যানেজার। পরে আক্রমণাত্মক আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন ইউনিয়ন নেতা।
জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন করতেই দোহাই দেন ওপর মহলের। স্বীকার করেন পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও হেড অফিসের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
ফতুল্লা মেঘনা অয়েল কো. ডিপোর ম্যানেজার মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘এগুলোর আমাদের কাছে কোনো প্রশ্রয় নাই। তারপরেও আপনাকে বলি, একটা পেট্রোল পাম্পের মালিক তিনি হয়তো সেই অ্যাসোসিয়েশনের মালিক, আবার তিনি ট্যাংকলরি অ্যাসোসিয়েশনেরও মালিক বা সদস্য। তাই এদেরকে ডিফাইন করা—যেমন শুধু শ্রমিক এটাও বলতে পারবেন না, আবার মালিক এটাও বলতে পারবেন না; এরা সব মিক্সড।’
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, কেউ জ্বালানি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভবিষ্যতে তেল সংকট এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।




Comments