আশিয়ান গ্রুপে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালন
জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বেই বদলে গিয়েছিল দেশের অর্থনীতি: নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ স্মরণ সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান আশিয়ান গ্রুপ। শনিবার (৩০ মে) বাদ আসর রাজধানীর খিলক্ষেতের বরুয়ায় অবস্থিত আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে যথাযোগ্য মর্যাদায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রবীণ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। এতে হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন।
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। নিজের জীবনের এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের একজন চির অনুসারী। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকেই বাবার সঙ্গে পাটের ব্যবসার মাধ্যমে আমার কর্মজীবন শুরু হয়। তৎকালীন গুলশান থানার অন্তর্ভুক্ত এই বরুয়া এলাকাতেই ১৯৭৫ সালে এক স্বনির্ভর সভায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে আমার সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছিল।”
সেই সোনালী দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “সেদিন অল্প বয়সী আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে জিজ্ঞেস করেছিলেন— ‘বাবা তুমি কেমন আছো? তুমি বাসায় এসো।’ একজন রাষ্ট্রনায়কের এমন সাদামাটা জীবন, অমায়িক ব্যবহার এবং অভাবনীয় আন্তরিকতা আমাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছিল। তাঁর সেই স্নেহময় ও আন্তরিক দূরদর্শিতাই আমাকে তাঁর রাজনীতির প্রতি চিরতরে আকৃষ্ট করে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অটল ও অবিচল রয়েছি।”
শহীদ জিয়ার শাসনামলের নানামুখী অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং এক দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। ১৯৭৫-পরবর্তী অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে তিনি দেশের হাল ধরেছিলেন এবং মাত্র কয়েক বছরের শাসনামলে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলেছিলেন। তাঁর প্রবর্তিত ঐতিহাসিক '১৯ দফা কর্মসূচি' দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও শিল্প খাতে এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটিয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “জিয়াউর রহমানের দূরদর্শিতার কারণেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। আজ আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) খাতের বিকাশ, মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার উন্মোচন এবং জনশক্তি রপ্তানির যে মজবুত ভিত্তি তিনি গড়ে দিয়ে গেছেন, আজ দেশের অর্থনীতি সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই সমৃদ্ধি অর্জন করছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল করতে তাঁর গণমুখী খাল খনন কর্মসূচি, স্বনির্ভর আন্দোলন এবং গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার যে যুগান্তকারী উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন, তা ছিল এক অনন্য সাধারণ নেতৃত্বের প্রমাণ।”
বক্তব্যের শেষাংশে নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া দৃঢ়তার সাথে বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আজ আমাদের মাঝে সশরীরে নেই, কিন্তু তাঁর কালজয়ী দর্শন, দেশপ্রেম এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শ আমাদের মতো প্রতিটি কর্মীর হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে। সেই আদর্শকে বুকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”
আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রার্থনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।




Comments