Image description

দেশের এভিয়েশন খাতের প্রচলিত সব সমীকরণ ও ‘একলা চলো’ নীতির বেড়াজাল ভেঙে সম্পূর্ণ নিজস্ব ও লিজিং অর্থায়নে গ্লোবাল ব্র্যান্ড হওয়ার মহাকাব্য লিখছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। কোনো ব্যাংক লোন (Bank Loan) ছাড়াই এক যুগ পার করা এই দেশীয় জায়ান্ট এবার শুধু আকাশপথেই নয়, দেশের চিকিৎসা ও প্রযুক্তি খাতেও এক ঐতিহাসিক মেগা প্রজেক্টের ঘোষণা দিয়েছে। ১ হাজার বিঘা জমির ওপর আন্তর্জাতিক মানের ‘হেলথকেয়ার সিটি’ নির্মাণ এবং নিজস্ব ডাটা সেন্টার ও আইটি পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

​রবিবার রাতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের ওশান প্যারাডাইজ হোটেলে আয়োজিত যুগপূর্তির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এই মাল্টি-মিলিয়ন ডলারের মহাপরিকল্পনা উন্মোচন করেন।

​সবজি রপ্তানিতে ‘২৫ সেন্টের’ ধাক্কা: নীতিগত অবহেলায় বন্ধ ৯ এয়ারলাইন্স

​অনুষ্ঠানে দেশের এভিয়েশন খাতের চরম বৈষম্য ও নীতিগত সংকটের চিত্র তুলে ধরে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “এভিয়েশন মানেই কানেক্টিভিটি। অথচ সংকটের সময় আমরা সরকার বা অথরিটির কোনো পলিসি সাপোর্ট পাই না।”

​তিনি এক চোখ-কপালে তোলার মতো পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, বাংলাদেশ থেকে কার্গো রপ্তানি করা বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ও জটিল প্রক্রিয়া। থাইল্যান্ডের ব্যাংকক বা ভারতের দিল্লি যেখানে প্রতি কেজি পণ্য রপ্তানিতে দুই অথরিটিকে মাত্র ৫ সেন্ট চার্জ দেয়, সেখানে আমাদের দেশের উদ্যোক্তাদের গুনতে হয় ২৫ সেন্ট! এই আকাশচুম্বী খরচের কারণে দেশের বিশাল সম্ভাবনাময় সবজি রপ্তানি খাত বৈশ্বিক বাজারে মার খাচ্ছে। মূলত উচ্চ ট্যাক্স, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং নীতিগত অবহেলার কারণেই গত কয়েক বছরে দেশের ৯টি বেসরকারি এয়ারলাইন্স ডানা মেলার আগেই বন্ধ হয়ে গেছে।

২০২৭ এর ব্লু-প্রিন্ট: একই ছাতায় জোড়া মডেল ও আকাশে ফ্রি ওয়াই-ফাই

​সব বাধা টপকে ইউএস-বাংলা ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার অ্যাস্ট্রা’ বর্তমানে দেশীয় আকাশপথের প্রায় ৭৫ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ২০টি দেশের ৩০টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তারা।

​এই মেগা মিশন সফল করতে বহরে যুক্ত হচ্ছে ২১টি সম্পূর্ণ নতুন বা 'ব্র্যান্ড নিউ' উড়োজাহাজ। নতুন এই বিমানগুলোতে যাত্রীদের জন্য থাকবে ফ্রি ইন-ফ্লাইট ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট, ওয়্যারলেস স্ট্রিমিং এবং প্রতি সিটে চার্জিং সুবিধা। এছাড়া, আগামী ২৯ জুলাই ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একই ছাতার নিচে ‘ফুল-সার্ভিস’ (প্রিমিয়াম) এবং ‘লো-কস্ট’ (স্বল্প খরুচে)—এই দুই ধরনের নতুন বিজনেস মডেলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত।

​গণমাধ্যমের প্রতি ‘দেশীয় ব্র্যান্ড’ প্রমোশনের আহ্বান

​উড়োজাহাজের কারিগরি ত্রুটি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক ট্রোলিং নিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইউএস-বাংলার এমডি। তিনি বলেন, “দেশি-বিদেশি সব এয়ারক্রাফটেই সামান্য টেকনিক্যাল সমস্যা হতে পারে, এটি এভিয়েশনে খুবই কমন বিষয়। অথচ বিদেশী ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে নিউজ না হলেও, আমাদের কোনো ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখেই নিউজ হয়ে যায়। আমরা এখন সাউথ এশিয়ান কাউকে নিজেদের প্রতিযোগী মনে করি না। বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হতে আমাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি গণমাধ্যমের গঠনমূলক ও ইতিবাচক নজর প্রয়োজন।”