ইসলামী শরিয়তে হালাল ও হারাম খাদ্যবিধান মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন থাকলেও কিছু বিষয়ে বিভ্রান্তি এখনো রয়ে গেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—ঘোড়ার মাংস খাওয়া ইসলামে বৈধ নাকি নিষিদ্ধ?
ইসলামী শরিয়তের মূল উৎস কুরআন ও সুন্নাহ এবং পরবর্তী ফিকহবিদদের বিশ্লেষণের আলোকে এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া যায়।
কুরআনে কী বলা হয়েছে?
পবিত্র কুরআনে ঘোড়ার মাংস খাওয়া হারাম বা হালাল—এ বিষয়ে সরাসরি কোনো নির্দেশনা নেই। তবে সূরা আন-নাহলের ৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার ব্যবহার হিসেবে সওয়ারি ও সৌন্দর্যের কথা উল্লেখ করেছেন। খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের কথা সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। এই আয়াত থেকেই কিছু আলেম সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
হাদিসে স্পষ্ট অনুমতি
অন্যদিকে সহিহ হাদিসে ঘোড়ার মাংস খাওয়ার অনুমতির প্রমাণ পাওয়া যায়। হযরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ–এর যুগে সাহাবিরা ঘোড়া জবাই করে তার মাংস খেয়েছেন। এই হাদিসটি সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত রয়েছে।
এ হাদিসের ভিত্তিতে অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও ফিকহবিদ ঘোড়ার মাংস খাওয়াকে বৈধ বলে মত দিয়েছেন।
চার মাযহাবের অবস্থান
ইসলামী ফিকহের চারটি প্রধান মাযহাবের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
হানাফি মাযহাবের আলেমদের মতে, ঘোড়ার মাংস খাওয়া মাকরূহ তানযিহি—অর্থাৎ এটি হারাম নয়, তবে পরিহার করা উত্তম। তারা ঘোড়ার জিহাদ, যুদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন।
অন্যদিকে শাফেয়ি, মালিকি ও হাম্বলি মাযহাবের মতে ঘোড়ার মাংস খাওয়া স্পষ্টভাবে হালাল। তারা সহিহ হাদিসকে এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
আলেমদের মন্তব্য
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এ ধরনের মতভেদ শরিয়তের স্বাভাবিক অংশ। কুরআন ও হাদিসের ব্যাখ্যার ভিন্নতার কারণেই এমন পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে কোনো মাযহাবই ঘোড়ার মাংসকে সরাসরি হারাম ঘোষণা করেনি।
সার্বিকভাবে বলা যায়, ঘোড়ার মাংস খাওয়া ইসলামে হারাম নয়। অধিকাংশ আলেমের মতে এটি হালাল। তবে হানাফি মাযহাব অনুসরণকারীদের জন্য তা পরিহার করাই উত্তম বলে বিবেচিত। ব্যক্তির উচিত নিজ নিজ মাযহাব অনুসরণ করে আমল করা এবং এ ধরনের মতভেদে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা।




Comments